সঠিক এসি নির্বাচন মানেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ার কন্ডিশনারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এসি কেনার সময় কেবল দাম না দেখে স্টার লেবেল, উৎপাদনের বছর এবং আইএসইইআর মান যাচাই করা জরুরি। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (বিইই) ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম চালু করেছে যা ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী ২০২৬ সালে উৎপাদিত একটি ৫-স্টার স্প্লিট এসির আইএসইইআর মান ৫.৬ এবং উইন্ডো এসির ক্ষেত্রে ৩.৭ হতে হবে। এর ফলে ২০২৬ সালের মডেলগুলো আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫ সালের একটি ৫-স্টার স্প্লিট এসি নতুন নিয়মে এখন ৪-স্টার হিসেবে গণ্য হবে।

এসির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত উপাদানের ভূমিকা অপরিসীম, যেখানে কপার বা তামা অ্যালুমিনিয়ামের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। তামার তৈরি সরু এবং খাঁজকাটা টিউব তাপ বিনিময়ে সহায়তা করে দ্রুত ঘর ঠান্ডা করে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমায়। এছাড়া ভারতের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় তামা সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না এবং এটি অন-সাইট মেরামতযোগ্য। অন্যদিকে অ্যালুমিনিয়াম মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জার মেরামত করা কঠিন এবং লিক হলে তা সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে হয়, যা খরচ বাড়িয়ে দেয়।

দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও তামা অনেক এগিয়ে কারণ এটি পরিষ্কার করা সহজ এবং দীর্ঘদিন স্টার রেটিং বজায় রাখে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালুমিনিয়াম হিট এক্সচেঞ্জার যুক্ত ৫-স্টার এসি ধুলোবালি জমার কারণে মাত্র ৩-৪ বছরের মধ্যে ৩-স্টার এসির সমান হয়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদী খরচ কমাতে এবং টেকসই শীতলতা নিশ্চিত করতে ২০২৬ সালের স্টার লেবেল এবং কপার উপাদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এটি কেবল বিদ্যুৎ বিলই সাশ্রয় করবে না, বরং পরিবেশ রক্ষাতেও বড় ভূমিকা রাখবে।