মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নাটকীয় মোড় নিতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে এবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি হাত মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা এবং আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে বারবার ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ক্রমাগত উস্কানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে রিয়াদ ও আবুধাবি তাদের পূর্ববর্তী ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি করিডোর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।
সৌদি আরব ইতিমধ্যে তাদের কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য মার্কিন বাহিনীকে অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে, যা আগে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ডে থাকা ইরানি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে এই দেশগুলোর নিবিড় যোগাযোগ বাড়ছে এবং তারা এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করার পক্ষপাতী। এর আগে আরব দেশগুলো সংঘাত এড়াতে চাইলেও, ইরানের সরাসরি হামলা তাদের কৌশলগত অবস্থান বদলে দিয়েছে। এই দুই প্রভাবশালী মুসলিম দেশ যদি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র এবং যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি চিরতরে বদলে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
