বাঘের বংশবৃদ্ধিতে নয়া মোড়: ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন কাটাতে বেঙ্গল সাফারিতে আসছে নতুন বাঘিনি

শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। বাঘের বংশবৃদ্ধিতে নতুনত্ব আনা এবং জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখতে এবার প্রাণী বিনিময় বা ‘অ্যানিমাল এক্সচেঞ্জ’ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দফতর। দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্কের সঙ্গে এই বাঘিনি বিনিময়ের প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই সিলমোহর দিয়েছে সেন্ট্রাল জ়ু অথরিটি।

বেঙ্গল সাফারি কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানে সেখানে থাকা অধিকাংশ বাঘই একই বংশের বা একই ব্লাডলাইনের। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে একই বংশের মধ্যে প্রজনন চললে ‘ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন’-এর ঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে শাবকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়া এবং অকাল মৃত্যুর মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই জিনগত বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতেই নতুন ব্লাডলাইনের বাঘিনি আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই বিশেষ কর্মসূচির অধীনে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক থেকে একটি বাঘিনিকে শিলিগুড়ির সাফারিতে আনা হবে। তার পরিবর্তে বেঙ্গল সাফারি থেকেও একটি বাঘিনিকে পাঠানো হবে পাহাড়ে। বর্তমানে দার্জিলিংয়ের ওই পার্কে দুটি সাইবেরিয়ান বাঘ এবং তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। এই বিনিময়ের ফলে উভয় জায়গাতেই সুস্থ প্রজননের পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

২০১৬ সালে শীলা ও স্নেহাশিস নামে দুটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে বেঙ্গল সাফারির পথচলা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪টি। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ এই ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সাফারি’-র জন্য পরিকাঠামোও ঢেলে সাজানো হয়েছে। গত বছর প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১০০ বিঘা জমি জুড়ে নতুন এনক্লোজ়ার তৈরি করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান বাঘের সংখ্যার কথা মাথায় রেখেই এই সম্প্রসারণ।

বেঙ্গল সাফারির বাঘেরা এখন দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অন্যতম মূল আকর্ষণ। নতুন ব্লাডলাইনের অন্তর্ভুক্তিতে আগামী দিনে সাফারিতে বাঘের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনই তাদের শারীরিক গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও উন্নত হবে। বন দফতরের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।