পার্নড রিকার্ড ইন্ডিয়ার ভারতীয় সিঙ্গল মল্ট লঙ্গিচিউড 77 সফল ভাবে লঞ্চ হল কলকাতায়। এই সিঙ্গল মল্ট তার ভারতীয় কারিগরি ও বিশ্ব মানের দক্ষতার সু-সমৃদ্ধ মিশ্রণ পরিবেশ করে কলকাতার বিচক্ষণ রসিকদের মন জয় করে নিয়েছে। এটি লঞ্চ হওয়ার মুহূর্তটিকে উদযাপন করা হয়েছে অনন্য এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। যা আয়োজিত হয়েছে আইটিসি সোনার, কলকাতায়। সেখানে অতিথিদের সামনে হাজির করা হয়েছিল খাঁটি ও সমসাময়িক ভারতীয় বিলাসিতার এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা।
লঙ্গিচিউড 77 তার ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের জন্য সারা বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এটি বহু সম্মাননীয় পুরস্কার লাভ করেছে। যেমন, লন্ডন স্পিরিট কম্পিটিশনে সোনা, দ্য স্পিরিটস বিজনেস অ্যান্ড মোন্ডে সিলেকশন-এর পক্ষ থেকে গ্লোবাল স্পিরিট মাস্টার্স, সেই সঙ্গে দ্য ইন্টারন্যাশনাল ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিটস কম্পিটিশনে ব্রোঞ্জ। এই সব পুরস্কার লাভেই প্রতিফলিত হচ্ছে যে এই ব্র্যান্ড উত্কর্ষ সাধনের প্রতি অবিচল ভাবে দায়বদ্ধ এবং বিশ্বের সবচেয়ে ভাল মানের হুইস্কিগুলির মধ্যে এই ব্র্যান্ডেরও মর্যাদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। লঙ্গিচিউড 77-এর প্রাণকেন্দ্রে আছে অসাধারণ কারিগরির উত্তরাধিকার। এটিকেই প্রাণবন্ত করে তুলেছেন সেই সব সুদক্ষ হুইস্কি প্রস্তুতকারক, যাঁদের নাম জড়িয়ে আছে এমন সব আইকনিক নামের সঙ্গে যা শোনা যায় সারা বিশ্বে। যেমন, চিভাস, গ্লেনলিভেট, ও জেমসন। লঙ্গিচিউড 77-কে তৈরি করা হয়েছে হুইস্কি তৈরির এমন ঐতিহ্য অনুসরণ করে যা দুই শতাব্দির চেয়ে বেশি সময়ে ধরে চলে আসছে। এর এক-একটি বোতলে এসে মিশেছে বেশ কয়েক প্রজন্মের দক্ষতা, উদ্ভাবন, ও কারু-কৌশল।
প্রখ্যাত হুইস্কি বিশেষজ্ঞ জিম মারির কথায়, “লঙ্গিচিউড 77-এ দেখা যায় স্পষ্টতা, ভারসাম্য ও বৈচিত্র। সেই সঙ্গে অনায়াস সূক্ষ্মতা— যা মার্জিত কারিগরির এক প্রকৃত প্রতিফলন। এই লিকুইড হল গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের। আমার হুইস্কি বাইবেল-এ একে আমি 94 পয়েন্ট দিতাম। আমি আজ পর্যন্ত সবচেয়ে ভাল যেসব স্কচ ব্লেন্ড ও সিঙ্গল মল্ট-এর স্বাদ নিয়েছি, সেগুলোর কয়েকটার সঙ্গে তো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকবে লঙ্গিচিউড 77। নাসিকের পাহাড়ের পাদদেশে একে পরিপক্ব করা হয়, সঠিক সময় মতন দক্ষতা সহ তৈরি করা হয়, এবং এর মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে তাপমাত্রার রদ-বদলের প্রভাবও আছে। এসবের জন্য এটা এমন কিছু হয়ে উঠেছে যা সত্যিই অসাধারণ। সারা বিশ্বে হুইস্কির মানচিত্রে ভারত যে ভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য উঠে আসছে, তারই প্রমাণ হল এই হুইস্কি। এর মধ্যে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে এই দেশ অসাধারণ গভীরতা, গুণ-মান, ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সহ সুরা তৈরি করার ক্ষমতা রাখে।”
লঙ্গিচিউড 77-এর মাস্টার ব্লেন্ডার মহেশ পাতিল বললেন, “লঙ্গিচিউড তৈরি করার কাজটি ছিল তীব্র আবেগ নিয়ে নিখুঁত কিছু গড়ে তোলার সফর। এখানে ডিস্টিলিংয়ের ক্ষেত্রে থাকা শ’-শ’ বছরের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভারতের অনন্য পরিবেশকে উদযাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে আমাদের এই অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে যে আমরা বিশ্বমানের এমন এক সিঙ্গল মল্ট তৈরি করতে চাই যেখানে প্রকৃত অর্থে ভারতের মূল সত্তাকে ধরে রাখা যায়। দিন্দোরি নাসিকের শীতল ও শুষ্ক জলবায়ুর মধ্যে থেকে আমরা আমেরিকান বার্বন ব্যারেল ও ওয়াইন ক্যাস্ক-এ খুবই সূক্ষ্ম ভাবে দুবার করে পরিপক্ব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি। তার ফলে এমন এক অনন্য মসৃণ ভাব ও বৈচিত্র এসেছে যা লঙ্গিচিউড 77-এর সংজ্ঞা হয়ে উঠেছে। আমি এটা দেখে বেশ গর্ব অনুভব করছি যে এই ব্যতিক্রমী লিকুইড কলকাতার রসিকদের প্রশংসা আদায় করে নিচ্ছে। কেননা, কলকাতা হল এমন এক শহর যেখানকার মানুষ প্রিমিয়াম ক্রাফ্টমম্যানশিপকে বুঝতে পারেন এবং তাকে মূল্যও দেন।”
