আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি আয়োজন করল এক বিশেষ অনুষ্ঠান “প্রেরণা” যেখানে সমাজকে অনুপ্রাণিত করা নারীদের শক্তি, সংগ্রাম এবং সাফল্যকে সম্মান জানানো হয়। এই অনুষ্ঠানে ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট নারী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নারীশক্তি, ক্ষমতায়ন এবং অগ্রগতির চেতনাকে উদযাপন করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট নারীদের সংবর্ধনা প্রদান। নিজেদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান এবং তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ ও নারীদের অনুপ্রাণিত করার জন্য তাঁদের এই সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া মহলের একাধিক কোচ ও খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উত্তরবঙ্গ মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ পপি দালাল, পাডুকোন স্কুল অব ব্যাডমিন্টনের কোচ সৌম্যদীপ সাহা, এবং কুডো মিক্সড মার্শাল আর্টস অ্যাসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি শিহান সাহাদেব বর্মন।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও ছিল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, যেখানে নারীদের স্বাস্থ্য এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের যে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা নারীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রসঙ্গে ডা. বিশ্বজিৎ দে, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান – প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি বলেন, “নারীদের শক্তি ও সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি তাঁদের গাইনোকলজিক্যাল স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হওয়াও অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়মতো প্যাপ স্মিয়ার ও স্তন পরীক্ষার মতো স্ক্রিনিং, সঠিক মাসিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া—এসবই বহু রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিজের প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা নারীদের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।”
এছাড়াও ডা. সোমশুভ্র পাল, কনসালট্যান্ট – অর্থোপেডিক্স, মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি বলেন, “নারী ক্রীড়াবিদরা শক্তি, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ়তার অনন্য উদাহরণ। তবে দীর্ঘদিন সক্রিয় ক্রীড়া জীবনের জন্য হাড় ও জয়েন্ট সুস্থ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করলে আঘাতের ঝুঁকি কমে এবং ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। সঠিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক যত্নের মাধ্যমে নারীরা ক্রীড়া জগতে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে পারেন।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মি. সঞ্জয় সিংহ মহাপাত্র, হসপিটাল ডিরেক্টর, মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি ও রংগাপানি বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অসামান্য অবদান, শক্তি এবং দৃঢ়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁদের সাফল্যকে উদযাপন করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আগামী প্রজন্মকে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য অনুপ্রাণিত করাও প্রয়োজন। একইসঙ্গে নারীদের উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক যত্নের মাধ্যমে নিজের স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।” এই অনুষ্ঠানে মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি ও রংগাপানির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। নারীস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন এবং সমাজের সঙ্গে সংযোগ আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে হসপিটালের প্রতিশ্রুতি এই আয়োজনের মাধ্যমে পুনরায় তুলে ধরা হয়। সমাজকে অনুপ্রাণিত করা নারীদের অবদান ও সাফল্যকে স্বীকৃতি জানাতেই এই আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
