ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সর্বাধিনায়ক তথা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বৃহস্পতিবার রাজস্থানের জয়সলমীরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধবিমান বা লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (LCH) ‘প্রচণ্ড’-এ সওয়ার হয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন। জয়সলমীর বিমানবাহিনী কেন্দ্র থেকে উড্ডয়ন করে রাষ্ট্রপতি প্রায় ২৫ মিনিট আকাশে কাটান। যুদ্ধবিমানের সামনের ককপিটে বসে তিনি আকাশপথের মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন। ৬৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতির এই সফর ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির সক্ষমতা এবং নারী শক্তির অগ্রগতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) দ্বারা নির্মিত ‘প্রচণ্ড’ হলো বিশ্বের একমাত্র অ্যাটাক হেলিকপ্টার যা ৫,০০০ মিটার উচ্চতায়, অর্থাৎ সিয়াচেন হিমবাহের মতো দুর্গম অঞ্চলেও অস্ত্র ও জ্বালানি নিয়ে অবতরণ এবং উড্ডয়ন করতে সক্ষম। এটি মূলত পাহাড়ী এবং মরুভূমি অঞ্চলে যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। জয়সলমীরের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় এই হেলিকপ্টারের মহড়া ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির এক জোরালো বার্তা দেয়। রাষ্ট্রপতির এই উড্ডয়ন কেবল প্রতীকি নয়, বরং এটি দেশের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের সাফল্যের প্রতিফলন।
উড্ডয়নের আগে রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সিনিয়র আধিকারিকরা ‘প্রচণ্ড’-এর কার্যকারিতা এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। আকাশে থাকাকালীন হেলিকপ্টারটি বিভিন্ন কৌশলী কসরত প্রদর্শন করে। সফলভাবে অবতরণের পর রাষ্ট্রপতি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন যে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধবিমানে উড়তে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। তিনি বিমানবাহিনীর পাইলট এবং ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মুর্মু আসামের তেজপুর বিমানঘাঁটি থেকে সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30 MKI) ফাইটার জেটেও উড়েছিলেন। তবে ‘প্রচণ্ড’-এর মতো দেশীয় হেলিকপ্টারে তাঁর এই সাম্প্রতিক সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে ভারত এখন আর কেবল বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের যুদ্ধ সরঞ্জাম তৈরিতে সক্ষম। সীমান্তে নিরাপত্তার নজরদারি এবং প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করার জন্য ‘প্রচণ্ড’ যে একটি অপ্রতিরোধ্য হাতিয়ার, রাষ্ট্রপতির এই সফর তা পুনরায় নিশ্চিত করল।
সামগ্রিকভাবে, জয়সলমীরের আকাশে রাষ্ট্রপতির এই সংক্ষিপ্ত অথচ গুরুত্বপূর্ণ সফর ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনেও দেশপ্রেমের জোয়ার এনেছে। সীমান্ত সুরক্ষা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের আধুনিকীকরণে ভারত যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এই পদক্ষেপ তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
