কলকাতার খাদ্যাভ্যাসে বরাবরই একটি নির্দিষ্ট ছন্দ ও রীতি রয়েছে। রবিবারের দুপুর মানেই সপরিবারে মাংস-ভাত, অফিসের ব্যস্ত সকালে টিফিন বক্স গুছিয়ে নেওয়া, আর সন্ধ্যায় পাড়ার মোড়ে রোল বা কাটলেটের আড্ডা। বাড়িতে ধীর আঁচে রান্না হোক বা ফেরার পথে কিনে আনা মুরগির মাংস দীর্ঘকাল ধরেই এসব আমাদের পরিচিত খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে স্বাদ এবং তৃপ্তির বাইরে এই খাবার আমাদের শরীরে পুষ্টির কী জোগান দিচ্ছে, তা নিয়ে আগে খুব একটা চর্চা হতো না। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলাচ্ছে। কলকাতার সাধারণ পরিবার থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রোটিন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে, যা শহরের চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাসে এক নীরব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারা দেশের প্রেক্ষাপটেই প্রোটিন গ্রহণের এই ক্রমবর্ধমান সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘ক্রিসিল’ (CRISIL)-এর শিল্প সমীক্ষা অনুযায়ী, মাথাপিছু মাংস গ্রহণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সেই কারণে চলতি অর্থবর্ষে পোল্ট্রি শিল্পে ৪-৬% রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। মুম্বইয়ের মতো শহুরে কেন্দ্রগুলোতেও এই প্রবণতা স্পষ্ট, যেখানে মানুষ প্রোটিন-নির্ভর খাবার হিসেবে সকালের জলখাবারে ডিম বা স্প্রাউট থেকে শুরু করে গ্রিলড চিকেন স্যালাড বেছে নিচ্ছেন।
কলকাতার ঘরে ঘরে সচেতনতা বাড়লেও চিকেন বা মুরগির মাংস এখনও সহজলভ্য ও পরিচিত প্রোটিনের উৎস হিসেবে শীর্ষস্থানে রয়েছে। গোদরেজ ফুডস লিমিটেডের মার্কেটিং ও ইনোভেশন প্রধান অনুশ্রী দেওয়ান বলেন, “আমরা প্যাকেটজাত ও স্বাস্থ্যকর চিকেনের চাহিদায় শক্তিশালী বার্ষিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করছি, যা ভারতীয়দের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিন যুক্ত করার পরিবর্তিত মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে। আধুনিক পরিবারগুলো এখন স্বাদ বজায় রেখে নিরাপদ ও উচ্চমানের বিকল্প খুঁজছে। আমাদের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যকরভাবে প্রক্রিয়াজাত চিকেনকে সহজলভ্য করা, যা পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দৈনন্দিন শক্তি ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।”
