তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে (NCR) বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগামী ৭ ও ৮ এপ্রিল দিল্লি, নয়ডা, গুরগাঁও এবং ফরিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় হতে পারে। গত কয়েকদিন ধরে দিল্লির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি উপরে থাকায় সাধারণ জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এমতাবস্থায় এই বৃষ্টিপাত অঞ্চলের তাপমাত্রা বেশ কয়েক ডিগ্রি কমিয়ে এনে দিল্লিবাহীকে প্রচণ্ড গরম থেকে সাময়িক মুক্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সক্রিয়তার কারণেই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল বিকেলের পর থেকে আকাশে মেঘের আনাগোনা বাড়বে এবং রাতের দিকে কিছু স্থানে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ৮ এপ্রিল বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বাড়তে পারে, যার সাথে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির ফলে দিল্লির বায়ুদূষণ সূচক বা একিউআই (AQI)-এর কিছুটা উন্নতি ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়া দিল্লিবাসীর জন্য একটি বাড়তি পাওনা। তবে আকস্মিক ঝড়ের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দিল্লির পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের একাংশেও এই দুদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিপাত রবি শস্যের বিশেষ করে গমের ফলনের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে, যদি শিলাবৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে সামগ্রিকভাবে শুষ্ক আবহাওয়ায় আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়লে পরিবেশ শীতল হবে। আবহাওয়া দপ্তর প্রতিদিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিশেষ প্রয়োজনে সতর্কতা জারি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। আপাতত ঘর্মাক্ত গরম থেকে রেহাই পাওয়ার আশায় ৭ তারিখের বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে উত্তর ভারত।
