ফাল্গুনের শেষে বৃষ্টির দাপট: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস, কমবে গরম

বসন্ত বিদায়ের লগ্নে রাজ্যের আবহাওয়ায় বড়সড় বদল। চৈত্র শুরুর মুখেই দফায় দফায় বৃষ্টিতে ভিজছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার জোড়া ফলায় রাজ্যের আকাশ মূলত আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আজ বৃহস্পতিবার হাওড়া, হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মোট ১২টি জেলায় সতর্কতা দিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী সাতদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের হবে না। তবে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে। তিনদিন পর থেকে ফের পারদ কিছুটা নামার সম্ভাবনা রয়েছে।  আজ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে। বিকেলের দিকে হালকা ঝোড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও দুর্যোগ এখনই কাটছে না। মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরের সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

উপরের পাঁচটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

সোমবারের পর থেকে উত্তরের জেলাগুলিতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১.০৫ কিমি উচ্চতায় পশ্চিম অসম থেকে বাংলাদেশ হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও শ্রীলঙ্কা সংলগ্ন সমুদ্রপৃষ্ঠে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবেই বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়েছে, যা বৃষ্টি নামাতে সাহায্য করছে। বৃষ্টির এই পরিস্থিতিতে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।