আর এই রকমই ব্যানার সারা শান্তিপুর শহর জুড়ে আনাচে-কানাচে লাগানো হয়েছে। ব্যানারের নিচে লেখা রয়েছে কবি কৃত্তিবাস রাম মন্দির ট্রাস্ট কমিটি। যদিও জানা যায় নদীয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বেলঘড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাতলা এলাকায় একটি জায়গাতে হতে চলেছে এই রাম মন্দির। যদিও এ প্রসঙ্গে খোঁজখবর করা হলে এই ট্রাস্ট কমিটির সম্পাদক লিটন ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন 2017 সাল থেকে এই ট্রাস্ট কমিটি কাজ করে চলেছে 2025 সালে তারা ট্রাস্ট হিসেবে গণ্য হয়েছে বর্তমানে ১০০ কোটি টাকা প্রজেক্টে এই রাম মন্দির তৈরি করা হবে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতাতেই গড়ে উঠবে রাম মন্দির। যদিও এই ট্রাস্ট কমিটির সভাপতি শান্তিপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাস্ট এর সম্পাদক লিটন ভট্টাচার্য। যদিও নদীয়ার ঐতিহ্য কৃত্তিবাসের লেখা রামায়ণের যে অংশ ফ্রান্সে রয়েছে সেটিও তারা নিয়ে আসছেন বলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত স্বীকার করেছেন। তবে এই রাম মন্দির হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকবিরোধী দুই শিবির ই।
ঘটনা প্রসঙ্গে শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী জানান, নিম্ন মানের রাজনীতি করা হচ্ছে। একজন নিজের জায়গাতে রাম মন্দির করছেন তাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি ছিল, ভগবান রামকে নিয়ে কোন রাজনীতি না করাই ভালো। হঠাৎ করে এই রাম মন্দির করা কি দরকার ছিল জানা নেই। শান্তিপুরের প্রতিটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ গোস্বামী বাড়িতে রঘুনাথ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে সেক্ষেত্রে বিধায়ক তহবিল কিংবা পৌরসভার তহবিল সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন করা হয়েছে এই ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাম মন্দির গুলির। তবে বর্তমানে যেখানে রাম মন্দির হতে চলেছে সেখানে ঐতিহাসিক গুরুত্ব কিংবা প্রভু রামের কোনরকম কর্মকাণ্ড হয়েছে বলে ইতিহাসে নেই। অপরদিকে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একই সুর করা হয়েছে। এ বিষয়ে যা সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানান মন্দির হলে কোন অসুবিধা নেই হিন্দুদের জন্য মন্দির হলে খুবই ভালো বিষয় তবে যে ট্রাস্ট কমিটি হয়েছে সেটা যেন স্বচ্ছ থাকে টাকা নিয়ে যেন কোনরকম নয় ছয় না হয়। অপরদিকে প্রাক্তন বিধায়ক বর্তমানে বিজেপির সদস্য প্রসঙ্গে সাংসদ জানান প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য কোন দলে আছে সেটা তার জানা নেই। কারণ বিজেপিতে থাকলে শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে থাকতে হয় , প্রাক্তন বিধায়ক নিজের মতো নিজেই চলেন।
উনি তৃণমূলে আছে না জোটে আছে সেটা অরিন্দম ভট্টাচার্য ভালো বলতে পারবেন। কৃত্তিবাসের হাতে লেখা পুথি প্রসঙ্গে জগন্নাথ সরকার জানান এখনো পর্যন্ত ভারত সরকার কোনরকম কিছু জানে না। এবং বিদেশ মন্ত্রক এ বিষয়েও কোন কথা বলতে পারছে না। কিভাবে প্রাক্তন বিধায়ক ফিরিয়ে আনবেন সেটা উনিই ভাল বলতে পারবেন। যদিও সমস্ত ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শান্তিপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য জানান, শান্তিপুরের মানুষের জন্য উন্নয়ন করতে গেলে বারবার সেই কাজের ব্যাঘাত ঘটায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। শান্তিপুরের উন্নয়নকে কোনদিনই তারা করতে চায় না। প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে তিনি ভেবেছিলেন শান্তিপুর কে আত্মনির্ভর শান্তিপুর গড়ে তোলার যেটা মোদীজি আত্মনির্ভর ভারত করেছেন। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা একাধিকবার বাধা প্রদান করলে এইরকম উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। একযোগে এদিন তৃণমূল এবং বিজেপিকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক। তবে আদেও এই মন্দির আসলে মন্দির নাকি কালচারাল সেন্টার নাকি ভোটের টিকিটের নতুন গিমিক তাই নিয়েই এখন রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
