আইপিএলের নতুন মরসুমের শুরুটা মোটেও সুখকর হলো না লখনউ সুপার জায়ান্টসের জন্য। ঘরের মাঠে নতুন জার্সি গায়ে লখনউয়ের ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঋষভ পন্থের দল নির্ধারিত ২০ ওভারের আগেই মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে যায়। চেনা পিচে লখনউয়ের ব্যাটারদের রীতিমতো দিশাহারা দেখিয়েছে। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ব্যক্তিগত ৭ রানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হওয়ার পর থেকেই দলের ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়। মিচেল মার্শ ২৮ বলে ৩৫ রান এবং আব্দুল সামাদ ৩৬ রান করে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও, দলের বাকি তারকারা কেউই ক্রিজ়ে টিকতে পারেননি। দিল্লির পক্ষে লুঙ্গি এনগিডি ও টি নটরাজন ৩টি করে উইকেট নিয়ে লখনউয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালসও শুরুতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। মাত্র ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে একসময় ধুঁকছিল অক্ষরের দল। লখনউয়ের বোলার মহম্মদ শামি ইনিংসের প্রথম বলেই লোকেশ রাহুলকে আউট করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পাথুম নিশঙ্ক, নীতীশ রানা ও অক্ষর পটেল দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে দিল্লির জয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় সমীর রিজ়ভি ও ট্রিস্টান স্টাবসের পঞ্চম উইকেটের অবিচ্ছেদ্য জুটি। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এই দুই তরুণ ব্যাটার লখনউয়ের বোলারদের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন।
সমীর রিজ়ভি ও স্টাবস মিলে ১১৯ রানের এক দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়েন, যা দিল্লির জয় নিশ্চিত করে। রিজ়ভি মাত্র ৪৭ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৫টি চার এবং ৪টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে স্টাবসও যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের এই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ১৭.১ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দিল্লি ক্যাপিটালস। লখনউয়ের হয়ে প্রিন্স যাদব ২ উইকেট নিলেও, স্বল্প রানের পুঁজি নিয়ে হার বাঁচাতে পারেননি তাদের বোলারেরা।
লখনউয়ের হারের প্রধান কারণ ছিল ব্যাটিং বিভাগের ব্যর্থতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রানআউট। বিশেষ করে নিকোলাস পুরান ও এডেন মার্করামের মতো পাওয়ার হিটাররা ব্যর্থ হওয়ায় বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় দল। অন্যদিকে, দিল্লির বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে লখনউকে চাপে রেখেছিলেন। লুঙ্গি এনগিডি, টি নটরাজন ও কুলদীপ যাদবদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে লখনউয়ের ব্যাটারদের লড়াই ছিল নেহাতই ফিকে। এই জয়ের ফলে মরসুমের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে দিল্লি ক্যাপিটালস, আর ঘরের মাঠে হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো সঞ্জীব গোয়েন্কার দলকে।
