বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) সম্প্রতি লবণের ব্যবহার কমাতে এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি এড়াতে সাধারণ টেবিল সল্টের পরিবর্তে কম-সোডিয়ামযুক্ত লবণের বিকল্প (এলএসএসএস) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। সংস্থার মতে, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ফলে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দৈনিক সোডিয়াম গ্রহণের গড় পরিমাণ ৪.৩ গ্রাম, যা হু-র নির্ধারিত ২ গ্রামের লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে সোডিয়াম গ্রহণ ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা বিশেষত হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
লো-সোডিয়াম লবণ মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি অংশ পটাশিয়াম ক্লোরাইড দ্বারা প্রতিস্থাপন করে তৈরি করা হয়, যা স্বাদে খুব একটা পরিবর্তন না এনেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে পটাশিয়াম-যুক্ত এই লবণ কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই এটি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে, সাধারণ আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং লবণের বিকল্পের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের উদ্দেশ্য। লবণের বিকল্প যেখানে সোডিয়াম কমায়, সেখানে আয়োডিনযুক্ত লবণ থাইরয়েড ও শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় আয়োডিনের অভাব পূরণ করে।
ভারতে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করতে ১৯৮৩ সাল থেকে টাটা সল্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভারতের প্রথম জাতীয় ব্র্যান্ড হিসেবে টাটা সল্ট প্রতিটি ঘরে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণ পৌঁছে দিয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। তবে বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনতার যুগে আয়োডিন ও কম সোডিয়ামের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য। একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারার জন্য লবণের পরিমিত ব্যবহার এবং সঠিক ধরণের লবণ নির্বাচনই আগামীর সুস্থ ভারতের চাবিকাঠি।
