ফেব্রুয়ারির শেষে সাদা চাদরে ঢাকল সান্দাকফু!

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে অপ্রত্যাশিত তুষারপাতে সেজে উঠল উত্তরবঙ্গের পাহাড়। মঙ্গলবার দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত সান্দাকফু এলাকায় তুষারপাতের খবর ছড়াতেই পর্যটকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে এই সময় তুষারপাত খুব একটা দেখা যায় না। তবে এ বছর মাসের একেবারে শেষ লগ্নে হওয়া তুষারপাত পর্যটন মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস মতো মঙ্গলবার দার্জিলিং জেলায় হালকা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গেও মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে ভিজল একাধিক জেলা।  আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছিল, ভোর থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ভিজবে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। পূর্বাভাস মতোই মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা-সহ আশেপাশের জেলায় বৃষ্টি নামে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের প্রভাব এখন প্রায় শেষের পথে। রোদের তাপ ও দিনের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। চলতি ফেব্রুয়ারির শেষে পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্রই শীত বিদায় নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রবিবার প্রবল তুষারপাতের জেরে সিকিমের ছাঙ্গু লেখ ও নাথুলা পাস এলাকায় বিপত্তি তৈরি হয়। দুপুরে সম্ভাব্য তুষারপাতের খবরে বহু পর্যটক সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পর আচমকা তীব্র তুষারপাত শুরু হলে রাস্তা সম্পূর্ণ তুষারে ঢেকে যায় ও একাধিক গাড়ি আটকে পড়ে।

যদিও অনেকেই নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হন, ৪৬ জন পর্যটক আটকে পড়েন বরফে। খবর পেয়ে ভারতীয় সেনা-র জওয়ানরা দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। রাতের অন্ধকার ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সফলভাবে সকল পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর তৎপরতায় প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।