আরজি করে নির্যাতিত ও নিহত চিকিৎসকের স্মৃতিতে হাসপাতাল করার জন্য নদীয়ার কৃষ্ণনগরের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে জমি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তাঁর বাবা-মা। নদিয়ার সদর শহরের সন্নিকটে, মায়াকোল এলাকায় ওই জমিতে একটি অর্ধনির্মিত বাড়ি তাঁদের বিনামূল্যে দেবার জন্য আগ্রহী হয়েছেন কৃষ্ণনগরের প্রবীণ পুরপ্রতিনিধি অসিত সাহা। জমি দেখতে গিয়ে নিহত চিকিৎসকের মা বলেন, “আমার মেয়ে মানুষের সেবা করতে চেয়েছিল। তার কাছে ছিল মানব সেবায় আসল ধর্ম । সেই মানব সেবা করার সুযোগ ওকে যারা দিল না, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে। সেই সঙ্গে তিনি জানান মেয়ের জনসেবার ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতেই তারা অভয়ার নামে হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।” চিকিৎসকের বাবা অশ্রুকন্ঠে বলেন, “দেশ-বিদেশের বহু মানুষ আমাদের পাশে থাকতে চেয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। আমরা আজ পর্যন্ত কারও কাছ সে অর্থে কোনও সাহায্য নিইনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার মানুষের সাহায্যেই এ বার নদীয়ার পূর্ণভূমিতে অভয়ার নামে হাসপাতাল গড়ে তুলব।”
হাসপাতাল তৈরি করতে গেলে যে জমির প্রয়োজন সেই জমি খোঁজার ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা কৃষি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও সমাজকর্মী স্বপন ভৌমিক। স্বপন বাবু বলেন “আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে, পাশাপাশি কৃষ্ণগঞ্জের মতো কিছু জায়গায় জমি দেখা হয়েছিল হাসপাতাল তৈরি করার জন্য । কিন্তু নানা কারণে সেগুলো নির্বাচিত হয়নি। স্বপন বাবুর কথায় কিছু দিন আগে, অসিতবাবুর কাছে আর্জি জানাই।” কৃষ্ণনগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল পুরপ্রতিনিধি অসিত সাহা বলেন, অভার নামে যদি হাসপাতাল করা হয়,এ ধরনের সমাজসেবা মূলক কাজের জন্য তিনি নিঃশর্তে জমি ও অর্ধনির্মিত বাড়ি। মায়াকোলে দান করতে চান । তিনি বলেন ওখানে মোট সাত শতক জমি এবং একটি অর্ধনির্মিত তিনতলা বাড়ি হাসপাতাল তৈরির জন্য ওঁদের দিচ্ছি।”
চিকিৎসকের বাবা-মা জানান, সাত জনের একটি ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবে এবং পরে তা পরিচালনা করবে। তাঁরা দু’জন ছাড়াও, তাঁদের এক নিকটাত্মীয়, স্বপন ভৌমিক, অসিত সাহা ও তাঁর পরিবারের দু’জন সেই বোর্ডে থাকছেন। ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ গড়ার প্রাথমিক কাজও এ দিন শুরু হয়েছে। বলা যেতেই পারে, নদীয়ার পূর্ণ ভূমিতে অভয়ার নামে হাসপাতাল তৈরি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা । কলকাতায় ফিরে যাওয়ার আগে চিকিৎসক অভয়ার বাবা-মা কৃষ্ণনগর আইএমএ ভবনে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সাহায্য প্রার্থনা করেন। আইএমএ কৃষ্ণনগর শাখার সহ-সভাপতি অনির্বাণ জানা বলেন, “আমরা আর জি কর আন্দোলনের গোড়া থেকেই পথে নেমেছি। ‘অভয়া ক্লিনিক’ নামে বিনামূল্যে একটি সাপ্তাহিক চিকিৎসা কেন্দ্রও চালাচ্ছি। তাঁর স্মৃতিতে যদি হাসপাতাল হয়, আমাদের অনেক চিকিৎসকই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।”
