ছোট জীবনধারার পরিবর্তন, দীর্ঘায়ুর বড় লাভ

সম্প্রতি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য জীবনধারার পরিবর্তন যেমন কয়েক মিনিট বেশি ঘুমানো, হালকা ব্যায়াম করা, এবং খাদ্যাভ্যাস উন্নত করা জীবনকাল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

একটি বড় গবেষণায়, যা প্রায় ৬০,০০০ মানুষকে ৮ বছরের জন্য অনুসরণ করেছে, দেখা গেছে যে মাত্র পাঁচ মিনিট বেশি ঘুম এবং দুই মিনিট মাঝারি ব্যায়াম—যেমন দ্রুত হাঁটা বা সিঁড়ি ওঠা—একজন ব্যক্তির জীবন এক বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারে। গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে প্রতিদিন আধা পরিমাণ সবজি যোগ করাও একই ধরনের সুবিধা দিতে পারে, বিশেষ করে তাদের জন্য যাদের ঘুম, ব্যায়াম এবং খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে খারাপ।

গবেষণার ফলাফলে বোঝা যায় যে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যগত লাভ আসে একসাথে একাধিক অভ্যাস উন্নত করার মাধ্যমে। যারা দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম, ৪০ মিনিটের বেশি মাঝারি থেকে শক্তিশালী ব্যায়াম, এবং সুস্থ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন, তাদের জীবনকালে নয় বছরের বেশি বৃদ্ধি পাওয়া গেছে, যার অনেকটা সময় তারা ভালো স্বাস্থ্যে কাটিয়েছেন।

গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে ঘুম, ব্যায়াম এবং খাদ্যাভ্যাস একসাথে উন্নত করা একক অভ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী। উদাহরণস্বরূপ, শুধুমাত্র ঘুমের উপর নির্ভর করে এক বছর জীবন বাড়াতে হলে অনেক বেশি ঘুম প্রয়োজন, কিন্তু তিনটি ক্ষেত্রেই সামান্য পরিবর্তন করলে একই ফলাফল আসতে পারে।

অন্য একটি বড় বিশ্লেষণে, যা ১৩৫,০০০ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা হয়েছে, দেখা গেছে যে দৈনন্দিন রুটিনে মাত্র পাঁচ মিনিট হাঁটা যোগ করলে প্রায় সকল প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। সবচেয়ে কম সক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে ঝুঁকি কমে প্রায় ৬ শতাংশ।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে বসার সময় কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। দিনে ৩০ মিনিট বসার সময় কমালে এমন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায় যারা প্রায় ১০ ঘণ্টা বসে থাকেন। সবচেয়ে বেশি বসে থাকা ব্যক্তিদের—প্রায় ১২ ঘণ্টা—মধ্যেও এই পরিবর্তন মৃত্যু ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ কমাতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে এই ফলাফল ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। এটি শুধুমাত্র দেখায় যে, সামান্য, অর্জনযোগ্য জীবনধারার পরিবর্তন সাধারণ জনসংখ্যার মধ্যে গ্রহণ করলে বড় স্বাস্থ্যগত সুবিধা দিতে পারে।