মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত বাণিজ্য নীতির পক্ষে একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ক্ষমতা আরও সুসংহত হলো। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রেসিডেন্টের এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করার সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতের মতো প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন শুল্কের চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই রায়ের প্রধান প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য ও সাপ্লাই চেইনের ওপর। আদালতের এই আদেশের পর হোয়াইট হাউস থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তারা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করবে। এর ফলে বিদেশি ইলেকট্রনিক্স, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি একটি চিন্তার বিষয় হতে পারে, কারণ আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারেও মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হয়। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে, এই পদক্ষেপটি মার্কিন উৎপাদন শিল্পকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেক দেশ এখন পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বাণিজ্য যুদ্ধে’র রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষি খাতের ওপর এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সবুজ সংকেত ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি তাকে আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা প্রদান করবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্প এই ক্ষমতা ব্যবহার করে কীভাবে বিশ্ব বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ তৈরি করেন।
