ভারতীয় রেলের লোকো পাইলটদের কর্মপরিবেশ এবং ছুটির সংকট নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক তথ্য সামনে এনেছে লোকো স্টাফ ইউনিয়ন। অভিযোগ উঠেছে, অর্শ বা পাইলস অপারেশনের গভীর ক্ষত থাকা সত্ত্বেও একজন লোকো পাইলটকে জরুরি ছুটি দিতে অস্বীকার করেছেন রেল কর্তৃপক্ষ। চরম নিরুপায় হয়ে ওই পাইলট কর্তব্যরত আধিকারিকদের সামনে নিজের পোশাক খুলে অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থান দেখাতে বাধ্য হন, যাতে প্রমাণ করা যায় যে তিনি ট্রেন চালানোর মতো শারীরিক অবস্থায় নেই। এই ঘটনাটি রেলওয়ে কর্মচারী মহলে তীব্র বিড়ম্বনা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়ন নেতাদের দাবি, রেলের এই অনমনীয় মনোভাব কেবল অমানবিকই নয়, বরং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তার জন্যও এক ভয়াবহ হুমকি।
দীর্ঘদিন ধরেই লোকো পাইলটরা অভিযোগ করে আসছেন যে, তীব্র কর্মী সংকটের কারণে তাঁদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা অসুস্থতাজনিত ছুটি দেওয়া হচ্ছে না। লোকো স্টাফ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন পাইলট যখন মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, তখন তাঁকে জোর করে ট্রেন চালাতে বাধ্য করা যাত্রী সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাইলট বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ যখন তাঁর শারীরিক যন্ত্রণাকে গুরুত্ব দেয়নি, তখনই তিনি এমন চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। এই ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ উচ্চপদস্থ রেল কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। ইউনিয়ন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি অবিলম্বে লোকো পাইলটদের কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট করা না হয় এবং মানবিক কারণে ছুটির অধিকার নিশ্চিত করা না হয়, তবে তারা দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। নিরাপদ রেল পরিষেবা বজায় রাখতে চালকদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যে অপরিহার্য, এই ঘটনাটি পুনরায় সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
