বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের রক্তিম আভায় সেজেছে প্রকৃতি। আর এই ঋতুরাজকে বরণ করে নিতেই উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়িতে এবার আয়োজিত হচ্ছে এক অনন্য উৎসব। ইতিহাসে প্রথমবার বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রাচীন লোক-ঐতিহ্য ‘ত্যারেয়া ফেলা ও রাখালসেবা’। আগামী বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ির কালীরহাট সংলগ্ন দেবীডাঙ্গা এলাকায় এই বিশেষ উৎসবের আসর বসবে।
একসময় উত্তরবঙ্গের গ্রামগঞ্জে ‘ত্যারেয়া ফেলা’র মাধ্যমে শীতকে বিদায় জানিয়ে বসন্তকে আবাহন করার রেওয়াজ থাকলেও, আধুনিকতার ভিড়ে তা আজ বিলুপ্তপ্রায়। সেই হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে দেবীডাঙ্গা ত্যারেয়া উৎসব কমিটি এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতা সমবেত হয়ে প্রাচীন রীতি মেনে ‘ত্যারেয়া’ ফেলবেন।নদীর তীরে গবাদি পশুদের স্নান করিয়ে পালন করা হবে বিশেষ রীতি, যা আয়োজকদের মতে মহাভারতের যুগের ঐতিহ্যের স্মৃতিবাহী।
উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকছে ভাগবত পাঠ এবং প্রথাগত ‘রাখালসেবা’র প্রসাদ বিতরণ। ইতিমধ্যেই দেবীডাঙ্গায় সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে। আয়োজক কমিটির আশা, এই উৎসব কেবল প্রথা রক্ষা নয়, বরং সামাজিক ঐক্যের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। উত্তরবঙ্গের এই শেকড় সন্ধানী উৎসবে সামিল হতে ধূপগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
