সড়ক দুর্ঘটনা একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গিয়েছে, যা ভারতজুড়ে প্রতিনিয়ত আঘাত, পঙ্গুত্ব এবং প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সচেতনতা বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও, হাসপাতালগুলোতে দুর্ঘটনাজনিত রোগীর অবিরাম যাতায়াত দেখা যায়, যার মধ্যে অনেকগুলিই মৌলিক নিরাপত্তা অভ্যাস এবং সড়কে দায়িত্বশীল আচরণ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যেত। কলকাতার ফোর্টিস হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. অনিন্দনসু বসু, তাঁর ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। “একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে, আমি সড়ক দুর্ঘটনার অত্যন্ত খারাপ পরিণতি নিজের চোখে দেখেছি। প্রতিদিন এমার্জেন্সি রুমে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা এমন সব আঘাত প্রত্যক্ষ করেন যা সাধারণ হাড় ভাঙা থেকে শুরু করে জীবন সংশয়কারী ট্রমা পর্যন্ত হয়, যা প্রায়শই রোগীকে দীর্ঘমেয়াদী পঙ্গুত্ব বা প্রাণহানির পর্যায়ে নিয়ে যায়। সড়ক নিরাপত্তা ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বের। এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ যার জন্য সম্মিলিত দায়িত্ব গ্রহণ প্রয়োজন।”
চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে, সড়ক দুর্ঘটনা আঘাত এবং মৃত্যুর সবচেয়ে প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে একটি। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩.৫ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। প্রতিটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে থাকে বেশ কিছু গুরুতর আঘাত যেমন মস্তিষ্কের ট্রমাটিক ইনজিওরি, মেরুদণ্ডের ক্ষতি, হাড় ভাঙা এবং অঙ্গহানির মতো পরিস্থিতি, সেইসঙ্গে মানসিক ট্রমাও থাকে চূড়ান্ত যা শারীরিক সুস্থতার অর্জনের পরেও অনেক সময় পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায়ই সুস্থতা অর্জনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়, যার মধ্যে একাধিক অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন এবং মানসিক ট্রমাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর প্রভাব ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিবার এবং কেয়ারগিভারদের ওপরেও পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক বোঝা তৈরি করে।
ডা. অনিন্দনসু বসু আরও যোগ করেন, “সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এই আঘাতগুলোর একটি বড় অংশ প্রতিরোধযোগ্য। অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে, মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে এই ক্ষতিগুলো এড়ানো যেত। চিকিৎসক হিসেবে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন দুর্ঘটনার ফলে কারও জীবন বদলে যেতে দেখা খুবই কষ্টকর।” সড়ক দুর্ঘটনার বোঝা কমাতে সচেতনতা জারি, ট্রাফিক নিয়মের কঠোর প্রয়োগ এবং চালক, পথচারী, সাইকেল চালক ও মোটরসাইকেল আরোহী সহ সমস্ত রাস্তা ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণ শেখা প্রয়োজন।
