ভারতের ‘কৌণ্ডিন্য’ পৌঁছাল ওমানে

ভারতীয় নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী পালতোলা জাহাজ আইএনএসভি কৌণ্ডিন্য একটি চ্যালেঞ্জিং ১৭ দিনের সমুদ্রযাত্রা শেষে ১৪ জানুয়ারি ওমানের মাস্কাটে পৌঁছেছে। প্রাচীন জাহাজ নির্মাণ কৌশল ব্যবহার করে নির্মিত এই দেশীয় জাহাজটি ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর গুজরাটের পোরবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই যাত্রা ভারতের সামুদ্রিক কূটনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনন্দ প্রকাশ করে জানিয়েছে, জাহাজটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদৃষ্টির প্রতীক, যা ভারতের দেশীয় সামুদ্রিক জ্ঞান, কারুশিল্প এবং টেকসই অনুশীলনের প্রদর্শন করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিকল্পনায় নির্মিত এই ঐতিহ্যবাহী উপায়ে বানানো পালতোলা জাহাজটি ভারত ও ওমানের মধ্যে ৫০০০ বছরের সামুদ্রিক, সাংস্কৃতিক এবং সভ্যতার সম্পর্কের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই উদ্যোগকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে বন্দর, নৌপরিবহন এবং জলপথ মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং ওমানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।”

কৌণ্ডিন্য জাহাজটি অজন্তা গুহার দেয়ালচিত্রে অঙ্কিত পঞ্চম শতাব্দীর একটি জাহাজের অনুপ্রেরণায় নির্মিত। এটি আধুনিক পেরেক বা ধাতব হুকের ব্যবহার ছাড়াই তৈরি হয়েছে; পরিবর্তে, কাঠের তক্তাগুলো দড়ি এবং সুতো দিয়ে সেলাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে। জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে কিংবদন্তি প্রাচীন ভারতীয় নাবিক কৌণ্ডিন্যের নামে। জাহাজটিতে বিশ্রামের জন্য কোনও কেবিন নেই, নেই কোনও ইঞ্জিন ও জিপিএস। সমুদ্রযাত্রার সময় সকল ক্রু সদস্যরা বা নাবিকরা স্লিপিং ব্যাগে ঘুমোতেন। আর বর্গাকার সুতির পাল এবং বৈঠার সাহায্যে সম্পূর্ণরূপে বায়ুশক্তির উপর নির্ভর করে জাহাজটি চলে। জাহাজে বিদ্যুৎ নেই। সতর্কতা জারি করতে নাবিকরা মাথায় পরা হেডল্যাম্প ব্যবহার করতেন। মোট ১৬ জন সদস্য দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় এই জাহাজে ছিলেন এবং শুকনো খাবার, খিচুড়ি ও আচার খেয়ে দিন কাটিয়েছেন।