নদীয়ার হস্তশিল্পের অনন্য মেলবন্ধন ধরা পড়ল কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে। গত ১৭ই জানুয়ারি থেকে এখানে শুরু হয়েছে ‘নদিয়া জেলা সমবায় ব্যাংক ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী মেলা’ ১৯শে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী ও বিক্রয় উৎসব। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের নিপুণ হাতে তৈরি হরেক রকম সামগ্রী নজর কাড়ছে সাধারণ মানুষের। মেলার স্টলগুলোতে সাজানো রয়েছে:
শান্তিপুর ও ফুলিয়ার সুতির কাজ করা পোশাক।
কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত মাটির পুতুল ও শো-পিস।
হাতের কাজের ব্যাগ, গয়না এবং ঘর সাজানোর সরঞ্জাম।
সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি আচার, বড়ি ও মশলাপাতি।
জেলা সমবায় ব্যাংক ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের উৎপাদিত পণ্যকে শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এর ফলে একদিকে যেমন এই মহিলারা আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁদের সৃজনশীলতাও সাধারণের সামনে আসছে। মেলার প্রথম দিন থেকেই সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শীতের সন্ধ্যায় মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন স্টলগুলোতে। কেনাকাটার পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি খাবারের স্টলগুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ১৯শে জানুয়ারি এই মেলার শেষ দিন। জেলাবাসীর প্রত্যাশা, এই ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে জেলার ক্ষুদ্র শিল্প ও নারী ক্ষমতায়নকে আরও মজবুত করবে। এই ধরনের মেলার মাধ্যমে যারা স্বয়ংবর গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত কর্মীরা যেমন উৎসাহিত হবে তেমনি মেলার মাধ্যমে তাদের সংসারের উপার্জন বৃদ্ধি করে সংসারে হাসি ফোটাবে।
নদীয়া জেলার সমবায় মধ্যে যারা বেস্ট হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম বেস্টের শিরোপা পেলেন নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের এসএইচ জি চন্দননগর এল. এস. প্যাক্স লি.। বেস্ট হওয়ার খবরে খুশি সমবায় গোষ্ঠীর মহিলারা। গোষ্ঠীর মহিলারা বলেন আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। এছাড়াও বেস্ট প্যাক্স কিশোরপুর এস কে ইউ এস লিমিটেড করিমপুর টু ব্লক, বেস্ট কে. সি. সি আকবর খান করিমপুর ওয়ান ব্লক ও বেস্ট ওম্যান কো-অপারেটিভ সোসাইটি অঙ্গনা ঋণদান সমবায় সমিতি, বেস্ট ECCS বি.সি. কে.বি এমপ্লয়ী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট কনজিউমার সোসাইটি চাকদহ ব্লক ও মহিলাদের খেলার পুরস্কার দেওয়া হয়।। আগামী দিনে আমাদের এই ধারা অব্যাহত রাখার সেই চেষ্টাই করবো। পাশাপাশি ব্লক স্তরেও যাতে ব্লকের সমস্ত সমিতিকে নিয়ে এই ধরনের মেলা করা যায় তার জন্য উদ্যোগ নিতে পারলে সমবায় ব্যবস্থার প্রচার ও সমবায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সুপ্রভাব আরও বেশি করে পড়বে বলে আশা করা যায়।
