পাহাড় ও সমতলের তাপমাত্রার লড়াই উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় ধরা পড়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক আর গৌড়বঙ্গের প্রবেশদ্বার মালদার দিনের তাপমাত্রার মধ্যে ফারাক নেই বললেই চলে। রবিবার গ্যাংটকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যেখানে ১৬.২ ডিগ্রি, সেখানে মালদা ১৬.৫ ডিগ্রি। মেঘ ও কুয়াশার দাপটে দিনের বেলাও সূর্যের তেজ কার্যত উধাও। এর জেরে উত্তরের সমতলে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে অবস্থান করছে। মালদা, দুই দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়ি-কোচবিহারে আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশার জেরে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৪ ডিগ্রি, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে পর্যটকদের জন্য সুখবর শুনিয়েছেন আবহবিদরা। জোড়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারির মধ্যে দার্জিলিংয়ের উঁচু পাহাড়ে হালকা বৃষ্টি ও তুষারপাতের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সান্দাকফু, ফালুটের পাশাপাশি আবহাওয়া সদয় হলে ঘুম বা সোনাদাতেও দেখা মিলতে পারে শ্বেতশুভ্র তুষারের। সিকিমের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, “ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের তেজ না থাকায় দিনের তাপমাত্রা বাড়ছে না। পাহাড়ের উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।”
কুয়াশার দাপট ও দৃশ্যমানতা উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং উত্তর দিনাজপুরে কুয়াশার দাপট সবচেয়ে বেশি। দৃশ্যমানতা কোথাও কোথাও ৫০ মিটারের নিচে নেমে আসছে। কোচবিহারের কিছু এলাকায় বিকেলের পর থেকেই দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছাচ্ছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও আগামী তিনদিন কনকনে ঠান্ডা বজায় থাকবে। পরবর্তীতে রাতের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।
শীতের আমেজে পর্যটন ও চড়ুইভাতি ঠান্ডা যত বাড়ছে, ততই ভিড় বাড়ছে নদীপাড়ের পিকনিক স্পটগুলোতে। শিলিগুড়ি সংলগ্ন দুধিয়া থেকে জলপাইগুড়ির তিস্তা পাড়—সর্বত্রই এখন চড়ুইভাতির চেনা মেজাজ। আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে পর্যটকদের মধ্যেও উদ্দীপনা তুঙ্গে। নতুন বছরের শুরুটা বরফে মোড়া পাহাড়ে কাটানোর জন্য ইতিমধ্যেই ব্যাগ গোছাতে শুরু করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
