দেড় দশক পর ক্ষমতায় ফিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান
জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে স্পষ্ট আশ্বাসের বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য— “দলমত, ধর্ম, দর্শন যার যার; রাষ্ট্র সবার”— ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই উচ্চারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বহুল প্রচারিত সম্প্রীতির স্লোগানের প্রতিধ্বনি খুঁজে পাচ্ছেন।
ভাষণে তারেক রহমান বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান— পাহাড় বা সমতল, যে অঞ্চলেরই হোন না কেন, এই দেশ সবার। তিনি জোর দিয়ে জানান, সাংবিধানিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চলবে বিধিবদ্ধ নীতি অনুযায়ী; দলীয় প্রভাব বা জবরদস্তির স্থান থাকবে না। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি।
তবে নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান, এই মাসকে অতিরিক্ত মুনাফার সময় হিসেবে না দেখে আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে মর্যাদা দিতে। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেওয়া তাঁর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব বাস্তবায়ন করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের বার্তা দিয়ে তিনি নতুন সরকারের পথচলার সুর নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছেন; এখন দেখার বিষয়, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পায়।
