উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে ডেটিং-এর নতুন রূপ টিন্ডারের

আধুনিক ডেটিং এখন আর কেবল স্ক্রিন সোয়াইপ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা হয়ে উঠেছে মানুষের পছন্দের গান, খাবার এবং উৎসবের মতো ছোট ছোট বিষয়কে ভাগ করে নেওয়ার একটি মাধ্যম। ভারতে টিন্ডারের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি তিনজনে একজন তরুণ সিঙ্গেল মনে করেন যে পছন্দ এবং আগ্রহের মিল থাকলে একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা অনেক সহজ হয়ে যায়। এই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (গুয়াহাটি, শিলং ও জিরো ভ্যালি) একটি বিশেষ প্রচার অভিযান শুরু করেছে টিন্ডার। সংগীত, খেলাধুলা এবং স্থানীয় উৎসবের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে টিন্ডার দেখিয়েছে যে, সাধারণ ভালোলাগা গুলো কীভাবে স্বাভাবিক এবং অর্থবহ আলাপচারিতার জন্ম দিতে পারে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতির অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো লাইভ মিউজিক ও কনসার্ট। গুয়াহাটিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পোস্ট ম্যালোন কনসার্টে টিন্ডার ‘লেটস সিং টুগেদার’ বা ‘একসাথে গান গাইবে?’-এর মতো মজার বার্তার মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের একে অপরের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। একইভাবে জিরো ফেস্টিভ্যালে টিন্ডার হাইলাইট করেছে কীভাবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অ্যাপে কথা বলার পর সংগীত এবং স্থানীয় খাবারের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে বাস্তবে দেখা করতে এবং একে অপরের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে সাহায্য করে। টিন্ডারের তথ্যানুসারে, প্রায় ৫৪ শতাংশ তরুণ ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে সংগীতের রুচিকে গুরুত্ব দেন এবং ৪০ শতাংশ মানুষ তাদের অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে গান ব্যবহার করেন।

সংগীতের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খেলাধুলার উন্মাদনাকেও কাজে লাগিয়েছে টিন্ডার। শিলংয়ের ফুটবল এবং বাস্কেটবল ম্যাচগুলোতে টিন্ডারের মজাদার অন-গ্রাউন্ড প্রম্পট বা বার্তা যেমন “কোর্ট তো খুঁজে পেলে, এবার নিজের প্লাস ওয়ান (+১) খুঁজে নাও” তরুণ দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। গুয়াহাটিতে নারীদের বাস্কেটবল ইভেন্টের মাধ্যমেও টিন্ডার কমিউনিটি-ভিত্তিক এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করেছে, যেখানে খেলার প্রতি ভালো লাগা থেকেই নতুন বন্ধুত্বের সূচনা হচ্ছে। শুধুমাত্র মাঠের লড়াই বা কনসার্ট নয়, উত্তর-পূর্বের মানুষের দৈনন্দিন রসবোধ এবং খাবারের প্রতি টানকেও গুরুত্ব দিয়েছে টিন্ডার। গুয়াহাটি ও শিলংয়ের বিলবোর্ডগুলোতে স্থানীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া দিয়ে লেখা হয়েছে “রসায়ন যদি ঠিক থাকে, তবে ভূত জলকিয়াও মিষ্টি লাগে!” এছাড়া রিজিওনাল ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে মিলে তৈরি করা কনটেন্টে স্থানীয় ভাষার টান এবং উত্তর-পূর্বের মানুষদের জীবনযাত্রার সাবলীলতা ফুটে উঠেছে। সামগ্রিকভাবে, গান, খাবার এবং খেলাধুলার মতো সামাজিক মুহূর্তকে ব্যবহার করে টিন্ডার উত্তর-পূর্ব ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।