টুনসূত্র এবার ১০টি ভাষায় উপলব্ধ

ভারতের এক নম্বর ডিজিটাল কমিক্স প্ল্যাটফর্ম ‘টুনসূত্র’ আজ তাদের এআই-চালিত লোকালাইজেশন সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে পাঁচটি নতুন ভারতীয় ভাষা বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, কন্নড় এবং মালয়ালম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে এই ভাষাভাষী পাঠকরা প্রথমবারের মতো প্রিমিয়াম এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সর্বাধিক বিক্রিত কমিক্স পড়ার সুযোগ পাবেন। এই সম্প্রসারণের ফলে টুনসূত্র এখন মোট ১০টি ভাষা সমর্থন করছে হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, কন্নড়, মালয়ালম, তামিল, তেলুগু, ইংরেজি এবং ভাষা ইন্দোনেশিয়া। এটি ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে ১৫০ কোটিরও বেশি মানুষের মাতৃভাষা কভার করে। এটি কেবল সাধারণ কোনো অনুবাদ নয়, বরং টুনসূত্র ৩,২০০-এর বেশি প্রিমিয়াম কমিক্সের সম্পূর্ণ ক্যাটালগ এই ভাষাগুলোতে প্রথমবারের মতো নিয়ে এসেছে।

টুনসূত্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশাল আনন্দ বলেন, “দুর্দান্ত গল্প বলার পথে ভাষা কখনও বাধা হওয়া উচিত নয়। আমরা এই সমস্যার সমাধানের জন্যই আমাদের এআই লোকালাইজেশন ইঞ্জিন তৈরি করেছি। আজ পুনের একজন ছাত্র, বেঙ্গালুরুর একজন পেশাদার বা কোচির একজন কিশোর সেই একই বিশ্বখ্যাত কমিক্সগুলো তাদের নিজস্ব ভাবনার ভাষায় পড়তে পারবে, যেভাবে টোকিও বা নিউ ইয়র্কের পাঠকরা পড়ে থাকে। এটি বিশ্বের বুকে এক সম্পূর্ণ নতুন বিষয়।”

টুনসূত্রের এই ভাষা সম্প্রসারণ তাদের নিজস্ব এআই লোকালাইজেশন ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত, যা ‘গুগল এআই ফিউচার ফান্ড’-এর সহযোগিতায় তৈরি। এটি কেবল টেক্সট অনুবাদ করে না, বরং কমিক্সের সম্পূর্ণ দৃশ্যপট এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদ করে। সাধারণ মেশিন ট্রান্সলেশনের তুলনায় টুনসূত্রের সিস্টেমটি বিশেষভাবে ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা প্যানেল ফ্লো, চরিত্রের কণ্ঠস্বর, সাংস্কৃতিক বাগধারা এবং স্পিচ বাবলের সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে পারে। এতে অনুবাদ হয় নিঁখুত। টুনসূত্র গুগল প্লে এবং অ্যাপ স্টোর উভয়েই উপলব্ধ।