মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি টেকসই শান্তি চুক্তির বিষয়ে নিজের প্রবল আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা নিরসনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তেহরানের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা। দক্ষিণ এশিয়ার এই পরমাণু শক্তিধর দেশটি বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করার জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের এই “শান্তি প্রত্যাশা” এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বে চলমান শান্তি মিশন সফল হলে তা হবে বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক বিশাল মাইলফলক। তবে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং আঞ্চলিক স্বার্থের সংঘাত কি পাকিস্তানের এই একক প্রচেষ্টায় সত্যি সমাপ্ত হবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের জন্য এই মধ্যস্থতা এক বড় ধরনের পরীক্ষা। একদিকে আমেরিকার সাথে কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষা এবং অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সাথে ধর্মীয় ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সংহতি বজায় রাখা ইসলামাবাদের জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ। যদিও পাকিস্তান অতীতেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরান বর্তমানে তাদের নিজস্ব নীতিতে অটল রয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনও তাদের ‘শান্তি ও শক্তির’ কৌশলে অবিচল। এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে পাকিস্তান যদি একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানসূত্র বের করতে পারে, তবেই কেবল অঞ্চলে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো সম্ভব। অন্যথায়, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস কেবল একটি কূটনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হয়েই থেকে যেতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর, যা নির্ধারণ করবে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা।
