ভারতের আশ্বাসে আস্থা ব্রিটিশ আদালতের, নীরব মোদির প্রত্যর্পণ বাতিলের নতুন আবেদন খারিজ

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদির ভারত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জয় পেয়েছে নয়াদিল্লি। যুক্তরাজ্যের একটি উচ্চ আদালত ভারত সরকারের দেওয়া নিরাপত্তার আশ্বাসের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে নীরব মোদির প্রত্যর্পণ আটকানোর নতুন আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে। নীরব মোদির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ভারতে পাঠালে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে এবং তিনি সেখানে উপযুক্ত চিকিৎসা বা নিরাপত্তা পাবেন না। তবে ব্রিটিশ আদালত ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে যে, মুম্বাইয়ের আর্থার রোড জেলে নীরব মোদির জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এই রায়ের ফলে নীরব মোদিকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পথে থাকা অন্যতম বড় আইনি বাধা অপসারিত হলো।

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের (PNB) প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি মামলার প্রধান অভিযুক্ত নীরব মোদি বর্তমানে লন্ডনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এবং ভারতের বিচার ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে প্রত্যর্পণ এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ব্রিটিশ বিচারক তাঁর রায়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং তাদের দেওয়া কূটনৈতিক আশ্বাস উপেক্ষা করার মতো কোনো শক্তিশালী কারণ আদালতের সামনে নেই। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলাটি লড়ছে এবং আদালতের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নীরব মোদির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বর্তমানে এমন পর্যায়ে নেই যা তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে। এর আগে নীরব মোদির আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ভারতের জেলখানার পরিবেশ অত্যন্ত শোচনীয় এবং সেখানে তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারে। এর জবাবে ভারত সরকার ভিডিওচিত্র ও নথিপত্রের মাধ্যমে আর্থার রোড জেলের বিশেষ সেলের সুযোগ-সুবিধার চিত্র তুলে ধরে। ব্রিটিশ আদালত সেই প্রমাণের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে জানিয়েছে যে, ভারতের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নীরব মোদি সেখানে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই রায়ের মাধ্যমে এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, অর্থনৈতিক অপরাধীদের আন্তর্জাতিক সীমানার বাইরে সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।

পরিশেষে, যুক্তরাজ্যের আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত সরকার এখন দ্রুত নীরব মোদির প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তৎপর হবে। যদিও নীরব মোদির সামনে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার আরও কিছু সীমিত সুযোগ থাকতে পারে, তবে বর্তমান রায়ের কঠোর অবস্থান তাঁর জন্য সেই পথকেও কঠিন করে তুলেছে। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও আইনি মহলে এই জয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি অন্যান্য পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী নজির হিসেবে কাজ করবে। ভারত সরকার আশা করছে, খুব শীঘ্রই নীরব মোদিকে ভারতের মাটিতে এনে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে এবং ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।