অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক মর্মান্তিক ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক ব্যক্তি তাঁর প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর তথ্য-প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েক টুকরো করেন এবং সেই দেহাংশগুলো নিজের ঘরের ফ্রিজের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং ওই নারী গত কয়েক বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ পাওয়ার পর পুলিশে খবর দিলে এই ভয়াবহ ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন ফ্রিজের ভেতর থেকে ওই নারীর খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার করে, যা দেখে খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনার দিন তাদের মধ্যে বিয়ের বিষয় অথবা আর্থিক কোনো লেনদেন নিয়ে প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়েছিল। রাগের মাথায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরবর্তীতে ধরা পড়ার ভয়ে দেহটি টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন যাতে বাইরে কোনো রক্ত বা চিহ্ন না থাকে। এই ঘটনাটি দিল্লির আলোচিত ‘শ্রদ্ধা ওয়ালকার’ হত্যাকাণ্ডের নৃশংস স্মৃতিকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক দল বর্তমানে পুরো বাড়িটি পরীক্ষা করছে যাতে এই জঘন্য অপরাধের পেছনের সঠিক কারণ এবং নিখুঁত সময়রেখা বের করা যায়।
বিশাখাপত্তনম পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের অপরাধ সমাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে মহানগরের জনবহুল এলাকায় দিনের পর দিন ফ্রিজে মৃতদেহ লুকিয়ে রাখার মতো দুঃসাহস অপরাধীদের বিকৃত মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। বর্তমানে মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং পুলিশ ওই নারীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
