পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি: দুই দফায় ভোটগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি করল কমিশন

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। গত ১৫ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বাংলাতে এবার লড়াই হবে দুই দফায়। আজ থেকেই রাজ্যে নির্বাচনী তৎপরতা তুঙ্গে।নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল—এই দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে।

রাজনৈতিক ময়দানে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রার পারদ চড়তে শুরু করেছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ২৯১টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। পাহাড়ে অনীত থাপার দলের জন্য তারা তিনটি আসন ছেড়েছে। অন্যদিকে, বিজেপিও দফায় দফায় তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে। লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসও। বামেদের তালিকায় দীপ্সিতা ধর বা বিকাশ ভট্টাচার্যের মতো পরিচিত মুখ থাকলেও, এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তী। কংগ্রেসও তাদের ২৮৪ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে, যেখানে অধীর চৌধুরী ও মৌসম বেনজির নূরের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এবারের ভোট হবে সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত। শান্তি বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া থেকে শুরু করে মালদহ ও বহরমপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। এখন দেখার, এই দুই দফার মহারণে বাংলার মসনদ শেষ পর্যন্ত কার দখলে যায়। নির্বাচনী খবরের সব লেটেস্ট আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।