কোন কৌশলে রোজের রান্না সহজ হবে?

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় সময় কীভাবে পেরিয়ে যায়, তা বোঝা মুশকিল। ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে অফিস যাওয়ার তাড়া, ফিরে এসে কাহিল শরীর! এর মধ্যেই নিয়মিত রান্নাবান্না বড্ড ঝক্কি মনে হয়। তবে সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই রান্নার খাটুনি কমানো সম্ভব। পাশাপাশি এতে সময়ও বাঁচবে।
রান্নার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় হয় তার প্রস্তুতিতে অর্থাৎ কাটা, বাছা বা মশলা তৈরি করতে। তাই আগে থেকেই কিছু প্রস্তুতি সেরে রাখলে ব্যস্ত দিনে রান্না অনেকটাই সহজ হবে।
আগে থেকে মশলা তৈরি: পেঁয়াজ ভেজে আদা-রসুন বাটা ও টমেটো দিয়ে মশলা কষিয়ে আগে থেকে তৈরি করে ফ্রিজে বায়ুনিরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে এই মশলা ব্যবহার করে দ্রুত পনির, আলুরদম বা মাংস রান্না করা যাবে। স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে রসুন, চিনেবাদাম, কাঁচালঙ্কা ও ধনেপাতা দিয়ে থেঁতো মশলাও তৈরি করে রাখা যেতে পারে।
সবজি কেটে সংরক্ষণ: ফুলকপি, গাজর, বিনস বা ব্রকোলির মতো সবজি আগে থেকে ধুয়ে কেটে শুকিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে রান্নার সময় অনেকটাই কমে। এইভাবে রাখা সবজি সাধারণত ২-৩ দিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে। পাশাপাশি আদা-রসুন বাটা এক সপ্তাহের জন্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
ডিম সেদ্ধ করে রাখা: আগে থেকে ডিম সেদ্ধ করে রাখলে ঝোল বা কারি রান্না সহজ হয়। এছাড়া দ্রুত স্যান্ডউইচ বা রুটি-রোল তৈরিতেও এটি কাজে লাগে। খোসা না ছাড়িয়ে ফ্রিজে রাখলে সেদ্ধ ডিম ৩-৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।
নুডলস ও পাস্তা প্রস্তুত রাখা: নুডলস বা পাস্তা আগে থেকে সেদ্ধ করে তেল মেখে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। ব্যস্ত সময়ে দ্রুত টিফিন বা হালকা খাবার তৈরিতে এটি বিশেষ সহায়ক।
লস্যি ও শরবতের কিউব: ঘন লস্যি বা ফলের শরবত তৈরি করে বরফের ট্রেতে জমিয়ে রাখলে গরমের দিনে তাৎক্ষণিক পানীয় তৈরি করা যায়। প্রয়োজনমতো কয়েকটি কিউব গ্লাসে নিয়ে জল মিশিয়ে নিলেই তৈরি ঠান্ডা পানীয়।
ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে এই সহজ কৌশলগুলি খুবই উপকারী।