মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হবে সহজ পদ্ধতিতে, আরও নিশ্চিন্তে

বর্তমানে ভারতে সব বয়সের মানুষেরই পিঠের ব্যথা এবং মেরুদণ্ডের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মেরুদণ্ডের চিকিৎসা এখন অনেক বেশি নির্ভুল, কার্যকর এবং নিরাপদ। মেরুদণ্ড সুস্থ রাখার প্রাথমিক ধাপ হলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ঝুঁকির মাত্রা অনেকটা কমিয়ে দেয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, স্নায়ুতে চাপ বা ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেরুদণ্ডের অধিকাংশ সমস্যার জন্যই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। ফিজিওথেরাপি, ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমেই অনেক রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। কেবল রক্ষণশীল চিকিৎসায় কাজ না হলে বা স্নায়ুর ওপর তীব্র চাপের ফলে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলেই অস্ত্রোপচারের কথা ভাবা হয়। ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতার সিনিয়র কনসালট্যান্ট স্পাইন সার্জন এবং ইউনিট হেড ডঃ অনিন্দ্য বসু জানান, অস্ত্রোপচার মানেই বিশাল কাটাছেঁড়া বা দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকার ধারণাটি এখন সেকেলে। বর্তমানে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত অস্ত্রোপচার এবং নেভিগেশন-নির্দেশিত পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চলাফেরা করতে পারেন এবং পরদিনই বাড়ি ফিরতে পারেন।

এই আধুনিক পদ্ধতিতে পেশির ক্ষতি ও রক্তপাত কম হয় এবং অস্ত্রোপচার পরবর্তী ব্যথাও অনেক কম থাকে। ও-আর্ম নেভিগেশন প্রযুক্তির মতো বড় অগ্রগতি এখন অস্ত্রোপচারের সময় টু ও থ্রি ডাইমেনশনাল ছবি সরবরাহ করে রিয়েল-টাইম আপডেট দেয়, যা জটিল অস্ত্রোপচারেও নির্ভুলতা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি রিয়েল-টাইম নার্ভ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সময় স্নায়ুর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা নিরাপত্তাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ডঃ বসুর মতে, এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য শুধু ব্যথা কমানো নয়, বরং নিরাপদে কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। তাই মেরুদণ্ডের সমস্যায় জটিলতা এড়াতে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।