বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে ভারতের অন্যতম শীর্ষ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের ইউনিট মণিপাল হসপিটাল রাঙ্গাপানি ক্যানসার প্রতিরোধ, প্রারম্ভিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে একটি ওয়াকাথনের আয়োজন করে। এই উদ্যোগে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেন। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বাঘাযতীন পার্ক থেকে শুরু হয়ে রামকৃষ্ণ ক্লাবে শেষ হওয়া এই ওয়াকাথনে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। এটি শুধুমাত্র একটি পদযাত্রা নয়, বরং আশা, সাহস ও একাত্মতার প্রতীক হয়ে ক্যানসার যোদ্ধা, সারভাইভার, কেয়ারগিভার এবং ক্যানসারে প্রভাবিত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর এক যৌথ বার্তা বহন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হসপিটাল রাঙ্গাপানির বিশিষ্ট অনকোলজি বিশেষজ্ঞরা | তাদের মধ্যে ছিলেন ডা. সৌরভ গুহ, কনসালট্যান্ট – রেডিয়েশন অনকোলজি এবং ডা. পঙ্কজ চৌধুরী, কনসালট্যান্ট – রেডিয়েশন অনকোলজি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মি. সঞ্জয় মহাপাত্র, হসপিটাল ডিরেক্টর, মণিপাল হসপিটাল রাঙ্গাপানি। তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্যান্সার সচেতনতা ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগ করে নেন।
এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. সৌরভ গুহ বলেন, “ক্যানসার আর শুধু কয়েকজনের রোগ নয়—এটি যে কোনও পরিবারকে প্রভাবিত করতে পারে। ভারতে প্রতি বছর ১৪ লক্ষেরও বেশি নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন এবং এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে আশার কথা হল, প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রারম্ভিক পর্যায়ে ধরা পড়লে তা অত্যন্ত সফলভাবে চিকিৎসাযোগ্য। সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং ও সময়মতো চিকিৎসা অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া বহু সাধারণ ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার ৮০–৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই ধরনের ওয়াকাথন মানুষকে ভয় বা দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে উৎসাহিত করে।” একই সুরে মি. সঞ্জয় সিংহ মহাপাত্র বলেন, “ক্যান্সার শুধুমাত্র একটি চিকিৎসাজনিত সমস্যা নয়। এটি এমন একটি লড়াই, যা কেবল হসপিটাল, ডাক্তার বা রোগীর একার নয়, এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের সবাইকে একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। ক্যান্সারের কোনও সমাধান নেই এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সময়মতো শনাক্তকরণ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনেক ক্যান্সারকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে এবং বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। সচেতনতাই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। সমাজের প্রতি আমার বার্তা খুব সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—প্রারম্ভিক স্ক্রিনিংকে অগ্রাধিকার দিন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন। প্রতিরোধ ও সময়মতো পদক্ষেপই জীবন রক্ষা করতে পারে।”
এই ওয়াকাথনের মাধ্যমে পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয় যে ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা জীবন বাঁচায়, প্রারম্ভিক শনাক্তকরণ পার্থক্য গড়ে তোলে এবং সম্মিলিত সমর্থন মানুষকে শক্তি জোগায়। উদ্যোগটি ক্যানসার সংক্রান্ত কুসংস্কার দূর করা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চায় মানুষকে উৎসাহিত করা এবং ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে সমাজ হিসেবে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে। এই আয়োজনের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটাল রাঙ্গাপানি কমিউনিটি আউটরিচ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্যানসার প্রতিরোধ ও প্রারম্ভিক শনাক্তকরণ নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি আরও একবার পুনর্ব্যক্ত করল।
