বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতায় বড় রদবদল: শুভেন্দুর হাতেই থাকছে রাজ্যের ব্যাটন

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তাকে বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করেন, যা তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। তৃণমূলের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের বিশ্বস্ত সেনাপতি থেকে বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে ওঠার এই সফরটি ছিল নাটকীয় ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি কেবল নন্দীগ্রামে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেননি, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রে তাকে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এছাড়া নন্দীগ্রামেও ৯,৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন তার পক্ষেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারের সময় মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য যে যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছিলেন, শুভেন্দু তার সবকটিই পূরণ করেছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে দলের সাথে থাকা শুভেন্দু ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তিনি তৃণমূলকে ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’ আখ্যা দিয়ে ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তিনি বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মাসকট এবং মমতা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই তাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের বিশেষ আস্থভাজন করে তুলেছে।

আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এখন বাংলার শাসনভার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে তার দীর্ঘদিনের প্রভাব এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা বিজেপিকে এই ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছে। শপথ গ্রহণের পর তার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করা। শুভেন্দুর এই উত্থান বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে এলো।