সাহিত্য

কসাই

কসাই

পাকা রাস্তাটা রেললাইনে ওঠার আগেই আর একটা কাঁচা রাস্তা এসে তাকে ভেদ করে সোজা উত্তর দিকে তোর্সা নদীতে গিয়ে ঠেকল। এক সময় এই কাঁচা রাস্তাটাই ছিল শহরে ঢোকার প্রধান সড়ক। পাকা রাস্তা থেকে নেমে তোর্সা নদীর দিকে যেতে হাতের ডান ধারে রমজানের মাংসের দোকান। দোকান মানে হাত চারেক একটা বাঁশ পোতা। আর ফুট চারেক গোলাই দেড় ফুট লম্বা একটি শাল কাঠের ডুম, একটি বালতি, ছোট-বড় দুটো দা, একটি চাকু, হাত চারেক একটি পলিথিনের টুকরো আর একটি ইট। বৃহস্পতিবার বাদে সোম থেকে রবি এই ছয় দিনের কোন দিনই বন্ধ থাকে না রমজানের দোকান। বিক্রিও বেশ ভালো। সকাল ছ'টা থেকে বেলা এগারোটা-বারোটার…
Read More
যাত্রীপ্রতীক্ষালয়

যাত্রীপ্রতীক্ষালয়

জরুরি অবতরণের জন্য আপনি দায়ী ননএই অপ্রত্যাশিত অন্ধকারলালশালুর নিচে যজ্ঞের বালিএসবের উপর শীতলতম দুধ, দই ও জলের মিশ্রণযে সামান্য আর্তশব্দ ভেসে আসে, এটাই সত্যপ্রিজমের ভেতর আলো ভেঙে যায়আলোর জাদুস্পর্শে আমাদের চোখদেখা ও না-দেখার মাঝেই সমস্ত যাত্রীপ্রতীক্ষালয় ............ নীলাদ্রি দেব
Read More
মোনালিসা ও কিছু অজানা তথ্য

মোনালিসা ও কিছু অজানা তথ্য

বিখ্যাত চিত্রকর লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে এই রহস্যময় চিত্রটি আঁকেন। প্রায় চারবছর লেগেছিল তাঁর এই ছবিটি আঁকতে। 'মোনালিসা' ছবিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু, মোনালিসার এই চিত্রটি এতো ব্যয়বহুল হওয়ার নেপথ্যে কারণ কী? এই রহস্যের সমাধান করা কিন্তু আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অনেকের মতেই তার আঁকা বিখ্যাত এই চিত্র “মোনালিসা” ছিল ফ্লোরেন্সের তৎকালীন একজন সিল্ক ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিসা গেরারদিনের পোর্ট্রেট। আবার অনেকেই মনে করেন লিওনার্দো তাঁর কল্পনা থেকেই এই ছবিটি এঁকেছিলেন। পূর্ণভাবে রহস্যে ঘেরা এই মোনালিসার চিত্রটি। ছবিটি বিভিন্ন দিক থেকে দেখলে বিভিন্ন রকম মনে হয়। দূর থেকে চিত্রটি দেখলে…
Read More
মিছিলের তরুণীকে

মিছিলের তরুণীকে

এমন করে মিছিলে যাও তুমি, রাস্তা হেটে চলে তোমার পায়ে লেগে, এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অসুখ হলো তুমি এবং তোমার আদর্শ, তোমার যাওয়ার আগে কালবৈশাখী বিকেল বেলায় শেষ করে দেব। পাহাড় নদী এক হবে তোমার দিন শেষে বিদ্রোহী কবি পুরস্কৃত হবে সুদর্শন চক্রে অথচ তুমি কিছুই জানবেনা, পৃথিবীর আর তোমার মধ্যে শুধু--- আয়তনের পার্থক্য।                             ..........বুদ্ধপ্রিয়
Read More
পার্থ ও তার পংক্ষিরাজ

পার্থ ও তার পংক্ষিরাজ

শহরের উত্তর প্রান্তের অপেক্ষাকৃত অলস ঝিমানো পাড়াগুলোয় কাঠফাঠা দুপুর বাঁ মেঘমেদুর বিকেলের তন্দ্রালসতা কাটিয়ে যদি দরজার কড়ানাড়ার সাথে মিহি মিষ্টি গলায় ডাক শোনেন – একটু মিটারটা দেখব। তবে দরজা খুলে যে ছোটখাটো মানুষটিকে আপনি দেখতে পাবেন সে স্ববিরোধিতায় ভর্তি। চার ফুট দশ কি পাঁচ ফুটের এই মানুষটি সবসময় চনমনে। চোখে বোতলের পেছনের মত মোটা গ্লাস। গালে মাথায় খোঁচা খোঁচা চুল। কৃশ চেহারা। কাঁধে শান্তিনিকেতনি ঝোলা। বয়স অনুমান করা কঠিন। তবে ৩৫ থেকে ৪৫ এর মধ্যে বলা যায়। সবচেয়ে স্ট্রাইকিং হল ওর মুখের হাসি। একটা স্মিত গোবেচেরা হাসি ওর মুখে ঝুলে থাকে সবসময়। অতি বিনয়ী এই লোকটি হল পার্থ। ইলেকট্রিক অফিসের…
Read More
পথ

পথ

‘সব মরণ নয় সমান…’ এই পুরনো গানটাই কিছুদিন হল বারংবার শোনে সায়ন।  কেন শোনে তা ঠিক জানে না। দিনবদলের যে স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়, তা খুঁজে চলে বিভিন্ন গল্প-কবিতা-গানে। কিন্তু  হোস্টেলে এসব  গান চালালেই বন্ধুরা টিটকারি করে। সেসব কথা যে খুব গায়ে মাখে তা নয়।  এমনিতেই সে স্বল্পভাষী। অকারণ তর্ক-বিতর্ক এড়িয়েই চলে। অথচ স্কুল থেকেই বিভিন্ন ডিবেট কম্পিটিশনে তার প্রাইজ বাধা। সে   ভাবে, এই অনিশ্চিত জীবনেও সবাই কত নিশ্চিন্তেই না আছে! কারও কোনও হেলদোল নেই!  মাঝে মাঝেই অস্থির হয়ে ওঠে। কাউকেই কিছু বলতে পারে না। নিজের মধ্যে গুমড়ে মরে। তবু গুন গুন করে গেয়ে ওঠে, ‘অন্ধজনে দেহ আলো…’ হোস্টেলের হইহট্টগোলের মধ্যে সে যেন একটি নিঃসঙ্গ…
Read More
নাগরের জলে

নাগরের জলে

নাগরের টলটলে জলেভেসে যায় স্বপ্নীল মেঘেরাভেসে যায় পুরাতন ইতিহাস কথাআদিগন্ত খোলামেলা বাতাসের প্রেমালাপমনু মাঝির ভাটিয়ালির সুরের মূর্ছনায়ঢেউ ওঠে নদীর তরঙ্গায়িত বুকেমানুষের দুঃখ-সুখের জীবনগাথা বুকে নিয়েনাগর বয়ে চলেছে আপন খেয়ালে দিনের পর দিনমাসের পর মাস,বছরের পর বছরবিরতিহীন সেই চলায়ক্রমশ মিশে যেতে থাকি আমিমিশে যেতে থাকে আমার যাবতীয় নাগর জানে মনের সব গোপন কথাফেলে আসা শৈশব স্মৃতি,লুকোনো আবেগের ঢেউ,দুঃখ সুখের আলাপন,সময়ের অভিঘাত সবনাগর চেনে সব গোপন ব্যথাদেরসে ছুঁয়ে দিলেই মন শীতল হয়ে যায়তাঁর কোনো চাওয়া নেই,অভিমান নেই,ক্লান্তি নেইনিরুদ্বেগ সে চলায় আমার মনের দুকূল ছাপিয়ে সে বয়ে যায়ভালবাসার পরশ বুলিয়ে সে বয়ে যায়আর নাগরের স্নিগ্ধ জলে মন ডুবিয়েসারা বিকেল একা পাড়ে বসে আমিগেয়ে…
Read More
মা আসছেন

মা আসছেন

"আশ্বিনের শারদ প্রাতে…." এক জলদগম্ভীর স্বরে হয়তো ব্যারিটোন গলায় নয়, কিন্তু বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের গলায় সেই আওয়াজ কানে আসা মাত্রই বাঙালির স্বপনে মননে যে উৎসবের জন্যে সারাবছর অপেক্ষা, তা শুরু হয়ে যায়। রাস্তার ধারে ধারে কাশের বনের ভিতর দিয়ে যে আকাশের দিকে তাকিয়ে যে শরতের পেঁজা তুলোর মতো মেঘের খেলা দেখতে দেখতে কখন যে অপু দুর্গার মতো আমাদের বয়েস ও বেড়ে গেলো তা টের ও পাই না। তাই দুর্গা পূজা বাঙালির চেতনায় এবং সংস্কৃতিতে এক অপরিসীম উৎকর্ষের সূচনা করে। কারণ মা আসছেন। বাঙালির এই প্রাণের পূজা এই বঙ্গদেশে কবে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে নানা মতবিরোধ থাকলেও, মোটামুটি ভাবে বলা যায়…
Read More
লকডাউন থেকে বাংলাভাষার পরিত্রাণ চাই

লকডাউন থেকে বাংলাভাষার পরিত্রাণ চাই

স্কুল কলেজ তো এক বছরের ওপর থেকে বন্ধই পড়ে আছে। অফিস-আদালতেও এখন "কার্যত লকডাউন" জারি। এমতাবস্থায় কি ঘরে বসে বসে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন? হাঁপিয়ে উঠেছেন মোবাইল আর সোশ্যাল মিডিয়ায়? নিত্যনতুন রান্নাবান্না, ফেসবুক, ইউটিউবেও আর মন বসছে না? তাহলে আর মন বসানোর চেষ্টাও করবেন না। অনেক তো হলো অন্তর্জাল জড়িত ক্রিয়াকর্ম। এবার না হয় একটু অন্য দিকে মনোনিবেশ করা যাক।এই বন্দিদশায় আরো বেশি করে বাঙালি হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন তো। মানে, কিছু বাংলা বই, বাংলা সিনেমার সান্নিধ্যে আসুন। না না, নিজেদের জন্য নয়। প্রধানত বাড়ির খুদেটির জন্যই এই পন্থা অবলম্বন করুন আর খুদেটিকে বাংলা নামক সাগরে সাঁতার শেখাতে হলে আপনাকে তো…
Read More
আলো ছুঁয়ে দেখি

আলো ছুঁয়ে দেখি

জোনাকি দেখিনি…আলোর অভাব বোধও ছিলনা কোনো মাতৃপুরুষ ছিল পাশে, অন্ধকারে একটা জোনাকিজানালার পাশে উড়ে এলে আমি ভেজা চোখেআলো ছুঁয়ে দেখি… ..................মৃন্ময় মাজী
Read More
ক্রস হিলস (ক্রুশ দাড়া)

ক্রস হিলস (ক্রুশ দাড়া)

নিষেধ করেছিলেন অনেকেই, শোনেন নি ফাদার দেসগোদিনস, ফ্রেঞ্চ ফাদার অগাস্টিন দেসগোদিনস ( ফরাসী ভাষায় যদিও "দেগোদে"। তা যাই-হোক, আমি তো অবশ্যই তার নামের বাংলাকরণই করবো, কারণ তিনি এসেছিলেন তো বঙ্গদেশেই, শেষ জীবনও কাটান বঙ্গদেশেই, তা সে যেখান থেকেই আসুন না কেনো) । অনেকের আপত্তি স্বত্বেও প্রায় জোর করেই রওনা দেন তিব্বত। সিল্ক রুট ধরেই যাত্রা, নাথুলা পার হয়ে তার মিশনারী দল নিয়ে পৌঁছে যান তিব্বত, উদ্দেশ্য খ্রিষ্টধর্মের প্রচার। বৌদ্ধ ধর্মের পীঠস্থান তিব্বতের লামারা যে বিষয়টাকে খুব হালকা ভাবে নেবে না, সেটার আঁচ পেয়ে যান পৌঁছানোর মুহূর্তেই। কিন্তু ফাদার দেসগোদিনস নিজ সিদ্ধান্তে অটল, ধর্ম প্রচারের গুরু দায়িত্ব যে তিনি স্বেচ্ছায় তুলে…
Read More
জলপাইগুড়ির রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর বৈশিষ্ট্য

জলপাইগুড়ির রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর বৈশিষ্ট্য

দশভুজা দুর্গার যে মূর্তি 'গন্ধর্বনারায়ণের বংশাবলী'তে কল্পনা করা হয়েছিল, ঐ মূর্তি ধাতুময় হয়ে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরের সংলগ্ন ভগবতী মন্দিরে স্থাপিত রয়েছে।জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজ এস্টেটের রাজবাড়ির অন্দরমহলে আজও নিত্য পূজিতা হচ্ছেন একই মাতৃমূর্তি।মণ্ডপে যে দশভুজা দুর্গোৎসবের সময়ে আরাধিতা হন, কালের নিয়মে ও আধুনিক যুগের চাহিদায় তা পরিবর্তিত হয়েছে সত্য, ড:চারুচন্দ্র সান‍্যালের লেখায় তা আংশিক প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।আমার 'রায়কত বংশের রাজর্ষি' বইটিতে ছবির অ্যালবামে আমি ২০০৩ সালে কোচবিহার ও বৈকুন্ঠপুরের প্রাচীনতম দুর্গামূর্তির ফটোকপিটি ছেপেছিলাম।এছাড়াও ২০০২সালে রাজবাড়ির কর্ণধার প্রণতকুমার বসু এবং‌ তদীয় স্ত্রী স্বপ্না বসুর (বর্তমানে প্রয়াতা)সঙ্গে আমি জোড়পাকুড়ি দক্ষিণ পূর্বে খয়েরখাল নামক স্থানে নবমী পুজোর দিন অনুরূপ স্বর্ণ দুর্গার…
Read More
নিধুবাবুর টপ্পা

নিধুবাবুর টপ্পা

মেঘের বিস্তার জানি।হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে যায়ইশারা।পুতুলের দোকানে দেখি রোদচশমাতর্জনীতে কপালের ঘামতান্ত্রিকের দিব্যি দিয়ে বলছিনিধুবাবুর টপ্পা ভালো লাগেআমার। .................সুবীর সরকার
Read More
ছেলেটি

ছেলেটি

বিপাশার কলেজে পড়তে পড়তে বিয়ে হয়ে যায়। ছেলে পয়সাওয়ালা বাড়ীর একমাত্র পুত্র, বড় ব্যবসা আছে, তাই বাবা মা আর দেরী করেনি। বিপাশা ঘোর সংসারী এখন - এক ছেলে আর এক মেয়ের মা। ছেলে মেয়ে বড় স্কুলে পড়ে। মেয়ে ক্লাস ফোরে পড়ে, ছেলে ক্লাস এইট এ। মেয়েকে গাড়ী করে স্কূল পৌঁছে দেওয়া আর নিয়ে আসার কাজ বিপাশাই করে। ড্রাইভার আছে। সেদিন মেয়েকে স্কূলে পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে এসে যখন গাড়ী থেকে নামছে, মনে হল দূর থেকে কে যেন তাকে দেখছে। আশেপাশে নজর চালিয়ে সে ভাবে কাউকে সে দেখতে পেল না, অথচ সিক্সথ সেন্স বলছে কেউ দেখছিল। মাঝে মাঝেই এটা হতে লাগল এরপর…
Read More