সাহিত্য

রথযাত্রার উৎস সন্ধানে

রথযাত্রার উৎস সন্ধানে

হিন্দুদের বিভিন্ন পূজা পার্বণের মধ্যে রথযাত্রার উৎসব একটি প্রসিদ্ধ উৎসব। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই রথযাত্রার অনুষ্ঠিত হয়। শুক্লা একাদশীর দিন পুনর্যাত্রা বা উল্টো রথ হয়। হিন্দুরা রথযাত্রার দিন পুণ্যার্জনের জন্য রথের দড়ি টেনে থাকেন। তাদের বিশ্বাস রথের দিন শ্রী শ্রী জগন্নাথ বা শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করলে আর পুনর্জন্ম হয় না। বাংলা তথা ভারতের সর্বত্রই রথযাত্রার উৎসব উদযাপিত হয়। এর মধ্যে হুগলী জেলার মাহেশের রথযাত্রা, মায়া পুরের ইস্কনের রথযাত্রা, ওড়িশার পুরীর শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উল্লেখযোগ্য। রথযাত্রার উৎসবের প্রথম দিকে কিন্তু জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা বা শ্রী কৃষ্ণের রথযাত্রা বলা হতো না। বলা হত মৎস্যেন্দ্রনাথের রথযাত্রা। তবে কে এই মৎস্যেন্দ্রনাথ!অনেক…
Read More
সেই মহালয়া আজও…

সেই মহালয়া আজও…

বুড়ির পাট থেকে ফিরতি পথ ধরতেই দুদ্দাড় ছুটে বেরিয়ে গেল মা সন্তোষী নামের বাসটি। ভাগ্যিস লাফিয়ে রাস্তার ধারে চলে গিয়েছিলাম! না হলে বোধহয় বিপদ একটা হতই। উঠেছি সেই ভোরবেলায়। উঠোনে থাকা শিউলি গাছের তলা তখন সাদা ফুলে ঢাকা। ঝেঁপে ফুল এসেছে এবার। শিউলির মো মো গন্ধে আর ভোরের হালকা ঠান্ডায় কেমন একটা নেশা লাগছিল। হাতে তখনও গত রাতের মাংসের সুবাস। বৈষ্ণব বাড়ি বলে মাংস রান্নার ব্যাপার কম আমাদের। যেদিন হত সেদিন বেশ সাজো সাজো রব পড়ে যেত। রান্নাঘর থেকে অনেকটা দূরে আমাদের শোওয়ার ঘরের বারান্দায় মা আর বড়কাকিমা মাংস রাঁধতেন। ঘরে বসে প্রেসার কুকারের সিটি গুণতাম। একসঙ্গে সবাই খেতে বসা…
Read More
শেষ দেখা

শেষ দেখা

আমার বিদেহী আত্মায় শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তুমি হাতে রজনীগন্ধার স্টিক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো আমার মৃতদেহের পাশে।তোমার চোখের কোণে চিক চিক করে উঠছে জল,ঠোঁট কেঁপে উঠছে ঘন ঘন।কিছু কি বাকি থেকে গেছে এখনো? আমিতো গোটা বিশ্ব চাইনি তোমার কাছে,শুধু তোমার অন্ধকারটুকু…তুমি তবু ফিরিয়েই দিলে। দেখো আজ কেমন আলো মেখে শুয়ে আছি,কাছে এসো,নিংড়ে নাওএযাবৎ যত আলো জমা করেছি,শেষদেখা হলে সবই তোমায় দিয়ে যাবো বলে। ....................পারমিতা দে(দাস)
Read More
হানিফ মাঝি ও বর্ষা

হানিফ মাঝি ও বর্ষা

প্রহর প্রহর ঝমর ঝমাৎঈশান কালো মেঘ।এমন সময় কলম ধরেইকবির আসে বেগ।আকাশ পানে হানিফ চাচাকরুণ চোখে চায়।মুষল ধারায় কেমন করেনৌকোখানা বায়!?কপাল জুড়ে ভাঁজের রেখাবিন্দু বিন্দু ঘাম -----বানের জলে ভেসেই চলেগাঁয়ের পরে গ্রাম।বুকের শিরা ফুলিয়ে হানিফহ্যাঁচকা মারে টান -----একটা শুধু টিনের চালাতাও বুঝি নেয় বান!!কবির কলম লিখেই চলেইলিশ মাছের ঘ্রাণ।ভাতের সুবাস পায় না হানিফক্যামনে বাঁচে প্রাণ!?
Read More
বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ

বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ

ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে ভারতীয় অন্যান্য ভাষার সাহিত্যে যে নতুন ঘরানার সাহিত্য মূলত বিকাশ লাভ করেছিল তার মধ্যে উপন্যাসে ছিল প্রধানতম।বাংলা সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের(১৮৩৮-৯৪) পর সম্পূর্ণ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।ঐতিহাসিক উপন্যাসের আঙ্গিক থেকে বেরিয়ে বাংলা উপন্যাসের নতুন কায়াকে যিনি গঠন করেছিলেন তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(১৮৬১-১৯৪১)। সামাজিক উপন্যাসের সূক্ষ্মতর ও ব্যাপকতর ব্যবস্থার প্রবর্তন করে রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্য ও সমাজকে বা উপন্যাসের ইতিহাসকে পুনর্নির্মাণ করেছিলেন।বাংলা উপন্যাসের বাস্তবতার যে গভীরতর পরিণতি দেখা গিয়েছিল তার প্রথম সূচক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ।"রোমান্স ও ইতিহাস" এই দুটি বিষয়কে দূরে সরিয়ে বাস্তব জীবনের শক্ত জমির উপরে রবীন্দ্রনাথ নিজ স্বাতন্ত্র্যকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।উল্লেখ্য যে রবীন্দ্রনাথের পূর্বসূরী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য জীবনের শেষদিকে মানবচরিত্রের…
Read More
সেই সাধের ছাদটা

সেই সাধের ছাদটা

তুহিনের সাথে আমার যখন বিয়ে ঠিক করেন আমার বাবা, তখনই আমার এ বিয়েতে আপত্তি ছিল | কারণ, তুহিন আর আমি স্বভাবে, চরিত্রে, মানসিকতায় সম্পূর্ণ বিপরীত | তুহিনের বেশ বড়ো প্রমোটিংয়ের ব্যবসা, এলাকায় যথেষ্ট প্রতিপত্তি, সাথে অনেক অর্থ | আমার বাবার একসময়ের বন্ধু ছিলেন তুহিনের বাবা | কিন্তু বেশ অনেকদিন হয়েছে তিনি গত হয়েছেন | কিন্তু তুহিনের পরিবারের সাথে আমার বাবার বেশ সুসম্পর্ক ছিল | সেই সুসম্পর্কের সূত্র ধরেই আমার বাবা তুহিনের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেন | আমি তখন সদ্য স্কুলে চাকরি পেয়েছি | চাকরির সাথে বিভিন্ন নৃত্যনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি | আমার জীবনের একটা বড়ো অংশ ছিল নাচ | আমার…
Read More
মূক

মূক

শত তল্লাশ শেষে নিজেকে আবিষ্কার করেছিএক অন্ধকার ঘেরা চাপা গলিতেবারবার পা টেনে রয়েছে বিষাক্ত কর্দমাক্ত পথ। দুচোখের পাতায় অনায়াসে ঝড়ে পড়াস্রোত যেন, কিছু বলতে চেয়েছিলঅথচ, আজও স্তব্ধ। কেবল ভেসে আসে দহন আর্তনাদযার কালো ধোঁয়ায় ঝাপসা চারিদিক ,বোধহয় বুকের ভেতর থেকেজ্বলে উঠছে সেই অবদমিত চিৎকারজটিল সম্পর্ক ঘেরা বেড়াজালেধর্ষিত মনটার।
Read More
নীরব অনুভূতি

নীরব অনুভূতি

খাবার টেবিলে বসে বিজন স্ত্রী দীপালির উদ্দেশ্যে বলল_ আজ আশ্বিন মাসের ক'তারিখ? কেন বাংলা তারিখের হিসাব করছ কেন? ষোলো। বলল দীপালি। না এমনিই।ছেলের কথা মনে পড়েছে বুঝি? আরও আট দিন আছে, ন'দিনের মাথায় ছেলে আসবে। ছাব্বিশ তারিখে মহালয়া মহালয়ার দিন থেকে রূপমের কলেজ ছুটি। বিজন বাবুর একমাত্র ছেলে রূপম। বিহারের এক কলেজে অধ্যাপনা করে। ভ্যাকেশন না হ'লে সচারচর বাড়ি আসতে পারে না। এদিকে রোজ খাবার সময় বাপ-মার ছেলের কথা মনে পড়ে। মা কষ্ট পাবেন ভেবে বিজনবাবু মুখ ফুঁটে কিছু বলেন না। দীপালি প্রায় দিনই খেতে বসে বলে, ছেলেটা যে আজ কি দিয়ে খেলো! হোটেলের রান্না , এক দিনও বোধহয় বাছা…
Read More
বন্দীত্বের ঘরে অসুখ

বন্দীত্বের ঘরে অসুখ

জ্বলছে দুচোখ আলোআঁধারিতে অসুখে পুড়ছে মাটিসূর্যডুবির সমাপ্তি রেখায় একাকী আমরা হাঁটিবন্দীত্বের চোরাকুঠুরিতে মানুষ জমানো আছেবেঁচে আছে কী পথিকের দল চেনা পৃথিবীর কাছে ……… বহুদিন দরজার সামনে কোনো চেনা মুখ দেখিনি| হাত ধরাধরি করে নীলেসাদায় পোশাক পরে কচিকাচালিদের রাস্তা পার হতে দেখিনি বহুমাস| আমার মন খারাপের মেঘ বড় অভিমানী| গুমরে মরলেও বৃষ্টি হতে চাই না| বন্দীত্বের ঘরে অসুখ সাজিয়ে রান্নাবাটি খেলার স্মৃতি রোমন্থন করে পাহাড়ের বুকে জমিয়ে রাখে বিষন্নতার অসহ্য যন্ত্রণা | দেখতে দেখতে বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় ,শ্রাবন পার হয়ে যায়| শেষ হয়ে যায় একটি বছর | কত ঘেঁটু ফুল অকালেই ঝরে যায়| আগুন রঙের পলাশের বুকে প্রখর রোদ নেমে আসে…
Read More
কৈলাসে ফেরা

কৈলাসে ফেরা

মা দুর্গা প্রায় ঘন্টা খানেক আগেই পৌছে গেছেন তাঁর স্বামীর বাড়ি, কৈলাসে।আজ মায়ের আরেক রুপ। তাঁর ছেলে মেয়েরা মায়ের সাথে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। কারণ ভীষণ মন খারাপ মায়ের। বাবাবাড়ী থেকে ফিরে প্রতিবারই মন খারাপ থাকে কিছুসময় তাঁর, কিন্তু আজকের পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে। কাপড়চোপড়ও বদল করেননি। সেই যে বসে আছেন, আছেনই। কথাবার্তা বন্ধ। চোখের তারায় কষ্টের রেখা আর ক্ষোভের আগুন দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। এ কদিনের অগোছালো সংসার পরিপাটি করারও কোন তাড়া নেই। কি এক বিমর্ষতা আর অস্ফুট দুঃখের জ্বালায় মুখখানা তপ্ত শিখার মতো জ্বলেই যাচ্ছে। প্রিয় পুত্র গনেশের ক্ষুধার বিষয়েও আজ মা নির্লিপ্ত। দিদিরা যা পারছেন করছেন কোনমতে। সকলেই…
Read More
অব্যক্ত

অব্যক্ত

__"শোনো বড় বৌমা তুমি মাছের কালিয়াটা তুলে রাখ। এমনিতে অনেক বয়স হয়েছে আমার। খাওয়া দাওয়ায় একটু সংযম দরকার। কাল তো সকাল সকাল সব লোকজন এসে পড়বে। তুমি দেখ কোন আয়োজনে যেন ত্রুটি না থাকে। এবার আমি যাই তোমার শ্বশুরমশাইকে পান দিয়ে আসি";এই বলে দুধ দিয়ে অল্প ভাত খেয়ে উঠে যান প্রবীণা গিরিজাদেবী। মাথা নেড়ে শাশুড়ি মার কথায় সম্মতি দেয় চৌধুরী বাড়ির বড় বউ রুমকি। বাড়ির সকলের খাওয়া হয়ে গেছে,শুধু ওর নিজের খাওয়াটাই বাকি। অবশ্য সায় দেওয়া ছাড়া বিশেষ কিছু করারও নেই রুমকির। মরমে আর অনুশোচনার চোরাবালিতে সবসময় ডুবে থাকে ও। অবশ্য তার একটা গভীর কারণ নিশ্চয়ই আছে সেটা হল ওর…
Read More
অন্তত নিজের কাছে

অন্তত নিজের কাছে

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিআসলে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা করছি,অথচ আমার এখন স্বেচ্ছা নির্বাসনে যাবার কথা।এ সময় অন্তত নিজের কাছে কিছু সত্য বলা প্রয়োজন -ভালবাসা আজকাল ধারণায় বাঁচেযেহেতু আমরা পরস্পরের থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাই।এই জন্ম, এই অতীতচারিতা - হয়তো বিস্মৃতি চেয়েছিলাম,আয়নার সামনে স্থির হয়ে দাঁড়ালে স্পষ্ট দেখতে পাইবুকের মধ্যে বইছে একটা নদীতীব্র জলস্রোতে ভেসে যাচ্ছে যাপিত জীবন। ………রঞ্জন চক্রবর্ত্তী
Read More
ব্যথা

ব্যথা

আচার খাবি?মন্দ হয় না, আছে ?হ্যাঁ হ্যাঁতোর পিসে খুব পছন্দ করে বলে বানানোই থাকেছুট্টে গিয়ে রান্না ঘরের সেল্ফ থেকে আচার নামাতেইআর্তনাদ শুনলামকোমরে হাত দিয়ে পিসিমা তখন বেঁকে দাঁড়িয়ে পড়েছেকোনোভাবে এসে বিছানায়রইলো পরে আমের আচাররইলো পরে পিসির বাড়ির চিকেন ঝোল আর বাসমতিএকটু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলাম মাসল স্প্যাসম বলেই মনে হলো।বেডরুম থেকে বেরিয়ে আসতেই শুনলামতুই খেয়ে যাস কিন্তু, আমি কদিনেই ঠিক হয়ে যাবো কোমরে ব্যথা কার না নেই ? তবে কুড়ি বছর বয়সে যে কোমরের ব্যথা কে আমরা হারিয়ে দিতে পারি রাতে ঘুমোলেই, সেখানে ৫০ পেরোলেই কোমরের ব্যথা চিরসাথী হয় অনেকেরই। ২০১০ সালের এক গবেষণায় জানা গেছে মানুষের প্রায় ৩০০ টি…
Read More
স্বার্থপর

স্বার্থপর

পাহাড়ের বুক চিরে বেশ জোড়েই চলছে গাড়িটা - সন্ধ্যে নামার আগেই কার্শিয়াং ফিরতে হবে - শৈবালের পাশে বসা অনুর মনে হয় শীত শীত আমেজ ' আউটিংয়ের ' মজাটাকে বাড়িয়ে তুলছে অনেকখানি - ' ড্রাইভিং সিটে ' শৈবালকে বরাবরই চোখ বুঁজে ভরসা করে এসেছে অনু - যদিও এটা শুধু পাহাড়ের চড়াই উতরাইয়ের ক্ষেত্রেই নয় - জীবনের প্রতিটি ওঠা পড়ায় শৈবালের সাহচর্য যে অনুকে কতটা আশ্বস্ত করেছে ও স্বস্তি দিয়েছে তা শুধুমাত্র অনুই জানে। সোনালী এই বিকেলে তাল কাটে একটি টায়ারের বিদ্রোহ ঘোষণার মধ্য দিয়ে - দোকানপাট শূণ্য নির্জন একটা অঞ্চলে গাড়িটা স্থবির হয়ে যাওয়ায় টায়ার পাল্টানোর কাজে অন্য কারো সাহায্য যে…
Read More