সাহিত্য

শিক্ষা কাঁদে ব্যবসা-ফাঁদে

শিক্ষা কাঁদে ব্যবসা-ফাঁদে

নাম - ডাক হলে দায়িত্ব ও বাড়ে l বিশেষত শিক্ষার সাথে যুক্ত হয়ে যাঁরা কাজ বা অর্থ উপার্জন করেন নানান কৌশলে, সেখানে রোজগারের পাশাপাশি সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনটাও জরুরী l নাহলে শুধুই চোখে পরে শিক্ষা-ব্যবসার নগ্ন চিত্রটা l শিক্ষা নিয়ে নানা ভাবে নানা স্তরে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা চলছে - শিক্ষিত সমাজ কুলেই l কিন্তু শিক্ষা- ব্যবসাটি অশিক্ষিত হাতে পড়লে সে আরো মারাত্মক l শিক্ষা নিজেই তখন রুগ্ন ও ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে শুধুই অশিক্ষা ছড়াতে থাকে, নীচের ছবি বা ঘটনাটি তারই একটা উদাহরণ মাত্র l একটি অতি নামী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সংস্থা নাকি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন Spoken English এর প্রশিক্ষণ দিতেও l…
Read More
জয়ের ঠিকানা

জয়ের ঠিকানা

" রেণু, এ্যই রেণু, এখনো ঘুমাচ্ছিস, ওঠ মা, সকাল হয়ে গেছে ।" মায়ের জোরালো কণ্ঠস্বরে গাঢ় ঘুম পাতলা হয়ে গিয়েছিল। ধড়মড় করে রাতের অবিন্যস্ত শয্যার উপর উঠে বসে আলস্য জড়ানো চোখ দুটিকে দু হাত দিয়ে কচলাতে কচলাতে মায়ের দিকে বিস্ফারিত চোখে চেয়েছিল  সেদিনের সেই চার পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে রেণু ওরফে আজকের সাহিত্যিক রেণুবালা দেবী । - " কি রে, কি হয়েছে তোর? এত ভয় পেয়েছিস কেন? স্বপ্ন দেখেছিস?" মা ব্যস্ত হয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই থেকে জীবনের এতখানি পথ পেরিয়ে অপরাহ্নের আলোয় বসে শৈশবের রেণু, আজকের সত্তর উত্তীর্ণা রেণুবালা দেবী, লিখে চলেছেন তার জীবনের এক অলৌকিক অনুভুতির কথা। এক বিচিত্র…
Read More
মিথ্যে

মিথ্যে

এইসব যাচাইয়ের কাছে আর কোনো সূত্র রচনা হচ্ছে না যেভাবে ভুল নিয়মে আর্টিস্ট হতে চাইছ তাতে একপ্রকার দানা লেগে আছে আঁশটে গন্ধের...
Read More
সার্কাসের হাতি

সার্কাসের হাতি

সেসব দিনে পুজোর পর থেকেই ডুয়ার্সের মফস্বলগুলিতে সার্কাসের তাঁবু পড়তো।বিশাল এলাকা জুড়ে সেই তাঁবু আর সন্ধ্যে হলেই সেখানকার সার্চলাইটটা মাথার ওপর চক্কর দিতে থাকতো।সারারাত ধরে বাঘ সিংহের হুঙ্কারে মুহুর্মুহু কেঁপে কেঁপে উঠতাম আমরা ছোটরা। গুটিসুটি মেরে ঢুকে পড়তাম লেপ কম্বলের ভেতর। বাড়ির বড়রা বলতো কথা না শুনলেই কিন্তু এক্ষুণি তারা চলে আসবে। চারিদিকে বেশ একটা সাড়া পড়ে যেতো সেসময়। আত্মীয়রা আসতো বাড়িতে। সার্কাস তো একাধিক দিন দেখতে যাওয়া হতোই। আর প্রায় সন্ধ্যেতেই বাড়ির বড়দের সাথে যাওয়া হতো সার্কাস ঘিরে যে মেলা বসে যেতো সেখানে। তো এই সার্কাসের হাতিদেরকে নিয়ে তাদের মাহুতরা দিনের বেলা বেরুতো খাওয়াতে। যেখানে যা পায়।হাতি চলতে চলতে…
Read More
যবনিকা

যবনিকা

যাবতীয় পাপ পুড়ে গেলে এইভাবে ভুলভাল লিখি তোমাকে অনুবাদ করব ভেবে একটা পাখি হাতে নিয়েছি তার ডানা  গজিয়েছে ইতিমধ্যেই আজকাল ছাদে বাসা বানানো শুরু করেছে নতুন...
Read More
অন্ধ ভালবাসা

অন্ধ ভালবাসা

কোঙ্কনগড়ের রাজা ভদ্রদেব ছিলেন সুপ্রশাসক। তার রাজ্যের প্রজারা খুব সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন। লোকজনের মুখে রাজার বহুবিধ গুণকীর্তন চর্চিত হত। যা তৎসময়ে দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক সময় অত্যাচারী রাজার হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে, সেই রাজার অনেক প্রজা একটু শান্তিতে বাঁচবার আশায় ভদ্রদেবের শরণাপন্ন হতেন। ভদ্রদেব কখনো কাউকে খালি হাতে রাজ-দরবার থেকে ফেরাতেন না। ভদ্রদেবের দু’ই রানী ছিল। হৈমবতী আর রূপবতী।  রূপে গুণে তারা ছিল নিরূপমা। তবে দু’ই রাণীর মধ্যে কোনো মিল ছিল না। দু’জনে, দু’জনকে সর্বদা হিংসে করতেন। হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া, অঢেল মণি-মানিক্য, প্রচুর ধন-সম্পদ, লোক-লস্কর, সিপাহী-সান্ত্রী, সুখী প্রজা, ভদ্রদেবের সবকিছুই ছিল। তবুও তার মনে কোনো সুখ ছিল…
Read More
সময়

সময়

গুলমা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দিনের শেষ ট্রেনটি এসে দাঁড়াতেই স্থিতপ্রজ্ঞ এক ধূসর শালিখ খুঁটে নিল একদানা বিবর্ণ সময়। ডুবঘাসে পড়ে ছিল খসে পড়া ঘড়ির কাঁটা, কবেকার সোনারঙ দিন। " হারায়নি কিছুই, জেনো, হারায় না সময়..." এইটুকু বলে- পাখিটা উড়াল দিল ফুল-উৎসবে দিগন্তে জারুলের বনে । অদূরে পাথুরে-চরা নদীটির বুকে ভেসে আসা পোড়াকাঠ ভর্ৎসনা ছোঁড়ে। রেলপুল দিয়ে ফিরে গেলে দিনান্তের গাড়ি ফিরে আসে পাখি । শোনায় সে অমৃতগান সারারাত ধরে ঐ পোড়াকাঠটিরে।
Read More
নুন ( শেষ পর্ব )

নুন ( শেষ পর্ব )

যে কমোডিটির এত বড় শক্তি সেই কমোডিটি যদি রান্নাঘরে এসে আমাদের খাবারের পাতে ঢুকে পড়ে তাহলে আমাদের শরীরে কি বিপ্লব হতে পারে ভেবে দেখেছেন? আমাদের শরীরে লবণ এক অত্যন্ত মূল্যবান ভারসাম্যে থাকে। বেশি হলে প্রাণ যাবে আর কম হলেও তাই।  দুটোতেই হার্ট বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ লবণের ওঠা নামায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে ব্রেনেরও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আমার সিনিয়র ছিল মহুয়াদি।  আমরা বলি মা-জননী। এত মায়ার মন তাঁর। গাইনি ডিপার্টমেন্টে কেউ মিষ্টি দিয়ে গেলে ভিসিটিং প্রফেসর থেকে শুরু করে বাচ্চা ডাক্তার সবাই পেতো সেই মিষ্টি। সবাই সমান, হয়তো চার ভাগের এক ভাগ, কিন্তু পেত।  মহুয়াদির কল্যাণে। প্রায় বছর কুড়ি আগে, …
Read More
রসাস্বাদন

রসাস্বাদন

“ ------- এই যে, প্রকাশ পাড়ুকোনের নাতি, অনেক খেলে ফেলেছো, এবার চাবিটা দিয়ে যাও, আমাদেরও তাড়া আছে।” নেটের ওপাশ থেকে উড়ে আসা শাটলককটা আকাশেই থেকে গেল। এমন কর্কশ গলার আওয়াজ শুনলে চোখ স্থির রাখা যায় নাকি? রাগে গা-টা রি রি করে উঠল। সবেমাত্র ১০-৯ এর লিড নিয়েছিলাম আমরা, আবার ওদের পয়েন্ট! যাইহোক, পকেট হাতড়ে চাবির গোছাটা বের করে একদৌড়ে রেলিঙের ধারে এসে দিলুদার হাতে দিতেই, সে কানের কাছে ফিসফিস করে বললো, “ তাড়াতাড়ি চলে আয়, আসর বসবে আজ।” তখন অবশ্য ম্যাচ জেতাটা অনেক বেশি জরুরি ছিল আমার কাছে, তাই আসর নামক শব্দটা কানে ঢুকলেও ঘিলু অবধি পৌঁছায় নি। এক দৌড়ে…
Read More
মৃত্যুর দিনে পরবাসে

মৃত্যুর দিনে পরবাসে

শরীর দ্বগ্ধ, পুরাণ জুড়ে, আদিমতার গান, ঈর্ষা কাতর, পরধর্মী, ললাটের অভিপ্রাণ । দূরারোগ্য প্রাচীর তোলে, হাওয়ায় ভাসে অলি, নতুন প্রাণের সহজ কথা, অবাধ হবে বলি স্নেহের পরশ তোমার ঠোঁটে, আসমানীর উড়োকথা যোগাযোগের আগুন নেভে হঠকারিতায় ব্যথা । নিষ্ক্রিয় দিন রঙিন কাগজ, অলিন্দের উপন্যাসে, জন্ম হবে তোমার কোলে, মৃত্যুর দিনে পরবাসে।
Read More
নুন

নুন

কিন্তু শক খেলাম ২০০২ সালে। দু মানুষ উঁচু আর তিন মানুষ চওড়া। কিলোমিটার হিসেবে লম্বায় প্রায় কলকাতা থেকে আগ্রা। পুরোটাই ঘন কাঁটাগাছের বেড়া। যে কাঁটাগাছের বেড়া তৈরি করতে ব্যয় হয়েছিল অনেক পরিশ্রম। ১৮৬৯ সালে শুধু দেড় হাজার টন কাঁটাগাছ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে গিয়ে এই বেড়া তৈরি করা হয়েছে । কয়েক হাজার সেপাই অতন্দ্র প্রহরায় রয়েছে যাতে এই কাঁটাগাছের বেড়া পেরিয়ে কেউ একশো গ্রাম লবণও এদিক থেকে ওদিকে না নিয়ে যেতে পারে। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে তো? দাঁড়ান, দাঁড়ান! ব্রিটিশ শোষণের গল্প কি শেষ হওয়ার? ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং কলোনিয়াল ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের  তৈরি এই গ্রেট হেজ অফ ইন্ডিয়া (great…
Read More
বিকর্ণ

বিকর্ণ

“ তোমার এতো বড় সাহস – আমার মেয়ের গায়ে হাত দাও? তোমাকে আমি জেলে ঢোকাব -এতো বড় আস্পর্ধা !!!!” “ বিশ্বাস করুন ,আপনার মেয়েকে আমি মারতে চাইনি – হঠাৎ করে রাগের মাথায় এক ঘা লাগিয়ে দিয়েছি।“ “জেলের ঘানি টানলে ঐ সব রাগ টাগ উধাও হয়ে যাবে – কত আশা করে আমার আদরের বড় মেয়ের সঙ্গে তোমার আমি বিয়ে দিয়েছিলাম….” “ বিশ্বাস করুন রাগ আমার এমনি আসেনি….. ঝগড়া হল আমার সঙ্গে, সেই রাগে মারতে লাগল আমার তিন বছরের বাচ্চা ছেলেটাকে- আপনার আদরের নাতিকে। মাথার ঠিক রাখা যায়?” “ বাচ্চার প্রতি দরদ শুধুই তোমার একার মনে হচ্ছে? ও কি বাচ্চার মা না?…
Read More
অশেষ প্রাপ্তি

অশেষ প্রাপ্তি

পুনরায় বাঁচবার একভাগ ফিরে দেখতে চাই ততক্ষণে রঙ্গমঞ্চ একেবারে কালো । হয়তো দর্শকদের দীর্ঘদিনের কঠিন সমালোচনায় বিরতি টেনেছে প্লট এবং চরিত্র উভয়ই । একরাশ অন্ধকার কেবল ব্যর্থতার বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অনর্গল হাসছে । সময়ের প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত চেষ্টার বিরূপ প্রতিক্রিয়া মনে করায় প্রতিটি রাতে স্বপ্নের মৃত্যু । তবে, এখানেই কি যবনিকা পতন! সমাগত অন্তিমকাল! অথচ, কোনো এক অদৃশ্য বাঁধন অনবরত তার সর্বশক্তি দিয়ে সিঞ্চিত করে চলেছে দাঁড়াবার মনোবল । সে যে শাশ্বত ভালোবাসা পতিতকেও নব ছাচে গড়তে পারে ঈশ্বরীয় প্রতিমায়।
Read More
জামাই আদর 

জামাই আদর 

আচ্ছা, জষ্ঠি মাসের ঠা-ঠা রোদ্দুর আর প্যাচপেচে গরমে মানুষের সব রস যখন শুকিয়ে কিসমিস হওয়ার জোগাড় তখন আম, জাম, জামরুল, কাঁঠাল, লিচু, আনারস ইত্যাদি হরেকরকম ফল এত রসালো হয়ে ওঠে কেন বলুন দেখি? কেনই বা ঝাঁকে  ইলিশ সমুদ্রের লোনাজল ছেড়ে গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনার মিষ্টি জলের দিকেই ছুটে আসে? আর কেনই বা মাথার ঘাম ছানায় ফেলে বাংলার ময়রারা ক্ষেপে ওঠে কে কার চাইতে পাল্লা দিয়ে ভাল ক্ষীরদই, ছানাবড়া, রসগোল্লা, তালশাঁস, সন্দেশ, রাবড়ি এসব বানিয়ে তাক লাগিয়ে দেবে। কারণ একটাই।স-ব ঐ জামাই বাবাজীদের পাতে পড়বে বলে। বলবেন সে আবার কী! শুধু জামাই বাবাজী কেন? রসিকজন মাত্রেই তো ফি-বছর এই সমস্ত রসালো…
Read More