সাহিত্য

অমৃত মহোৎসব

অমৃত মহোৎসব

বিরক্তি উগড়ে দিয়ে টিভির ভ্রষ্টাচার-পাঁচালী বন্ধ করে দেয় অচিন্ত্য। মুহূর্তে দশ বছরের পুরনো পোর্টেবল টিভিটার মুখ ঢেকে যায় অন্ধকারে। কালো টিভি স্ক্রিনের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে থাকতে থাকতে অচিন্ত্যর যেন ঘোর লাগে। মনে হয় ঐ নিকষ অন্ধকার যেন টিভির পর্দায় নয় সমস্ত পারিপার্শ্বিক জুড়ে নেমে এসেছে। পুরো সমাজটাই যেন পচে যাওয়া সিস্টেম,ঘূণে খেয়ে ফেলা মূল্যবোধ, আদর্শ, নীতিহীন রাজনীতির চরম পরাকাষ্ঠা সমেত টাইটানিক জাহাজের মত অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে কোথাও যেন একবিন্দু আশার আলো নেই। সেই গানের লাইনটা হঠাৎ মনে পড়ে যায় অচিন্ত্যর " নাই, নাই এ আঁধার থেকে ফেরার পথ নাই..."। সত্যিই কী সব আলো মুছে গেছে! আলোয় ফেরার কোনও…
Read More
একটি ব্রিজ আর কিছু কথা

একটি ব্রিজ আর কিছু কথা

বিভূতি বলল, - এটায় উঠতেই হবে! উঠব কীভাবে? থামলে তো! নাকের ডগা দিয়ে হুঁশ করে বেরিয়ে গেল বাসটা। চার নম্বরে রাস্তা অনেকটা বাঁক নিয়েছে। যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে আলোর সারি। বুঝলাম ব্রিজের জ্যাম খুলেছে। কোচবিহারে আড্ডা দিয়ে সন্ধে নাগাদ হরিশ পাল চৌপথি থেকে বাস ধরেছিলাম। বাণী নিকেতন গার্লস স্কুলের সামনে এসে দীর্ঘ লাইন দেখে বুঝতে অসুবিধে হল না, কপালে দুঃখ আছে! জানা গেল, ঘুঘুমারি রেল ব্রিজে ট্রাক নষ্ট হয়েছে। মেরামতি চলছে। কখন রাস্তা খুলবে ঠিক নেই। এই এক ব্রিজ! সারা ভারতে এরকম আর একটিও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে। রেলের হলেও এই ব্রিজ দিয়ে বাস, ট্রাক, টেম্পো,…
Read More
শিক্ষা কাঁদে ব্যবসা-ফাঁদে

শিক্ষা কাঁদে ব্যবসা-ফাঁদে

নাম - ডাক হলে দায়িত্ব ও বাড়ে l বিশেষত শিক্ষার সাথে যুক্ত হয়ে যাঁরা কাজ বা অর্থ উপার্জন করেন নানান কৌশলে, সেখানে রোজগারের পাশাপাশি সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনটাও জরুরী l নাহলে শুধুই চোখে পরে শিক্ষা-ব্যবসার নগ্ন চিত্রটা l শিক্ষা নিয়ে নানা ভাবে নানা স্তরে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা চলছে - শিক্ষিত সমাজ কুলেই l কিন্তু শিক্ষা- ব্যবসাটি অশিক্ষিত হাতে পড়লে সে আরো মারাত্মক l শিক্ষা নিজেই তখন রুগ্ন ও ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে শুধুই অশিক্ষা ছড়াতে থাকে, নীচের ছবি বা ঘটনাটি তারই একটা উদাহরণ মাত্র l একটি অতি নামী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সংস্থা নাকি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন Spoken English এর প্রশিক্ষণ দিতেও l…
Read More
জয়ের ঠিকানা

জয়ের ঠিকানা

" রেণু, এ্যই রেণু, এখনো ঘুমাচ্ছিস, ওঠ মা, সকাল হয়ে গেছে ।" মায়ের জোরালো কণ্ঠস্বরে গাঢ় ঘুম পাতলা হয়ে গিয়েছিল। ধড়মড় করে রাতের অবিন্যস্ত শয্যার উপর উঠে বসে আলস্য জড়ানো চোখ দুটিকে দু হাত দিয়ে কচলাতে কচলাতে মায়ের দিকে বিস্ফারিত চোখে চেয়েছিল  সেদিনের সেই চার পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে রেণু ওরফে আজকের সাহিত্যিক রেণুবালা দেবী । - " কি রে, কি হয়েছে তোর? এত ভয় পেয়েছিস কেন? স্বপ্ন দেখেছিস?" মা ব্যস্ত হয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই থেকে জীবনের এতখানি পথ পেরিয়ে অপরাহ্নের আলোয় বসে শৈশবের রেণু, আজকের সত্তর উত্তীর্ণা রেণুবালা দেবী, লিখে চলেছেন তার জীবনের এক অলৌকিক অনুভুতির কথা। এক বিচিত্র…
Read More
মিথ্যে

মিথ্যে

এইসব যাচাইয়ের কাছে আর কোনো সূত্র রচনা হচ্ছে না যেভাবে ভুল নিয়মে আর্টিস্ট হতে চাইছ তাতে একপ্রকার দানা লেগে আছে আঁশটে গন্ধের...
Read More
সার্কাসের হাতি

সার্কাসের হাতি

সেসব দিনে পুজোর পর থেকেই ডুয়ার্সের মফস্বলগুলিতে সার্কাসের তাঁবু পড়তো।বিশাল এলাকা জুড়ে সেই তাঁবু আর সন্ধ্যে হলেই সেখানকার সার্চলাইটটা মাথার ওপর চক্কর দিতে থাকতো।সারারাত ধরে বাঘ সিংহের হুঙ্কারে মুহুর্মুহু কেঁপে কেঁপে উঠতাম আমরা ছোটরা। গুটিসুটি মেরে ঢুকে পড়তাম লেপ কম্বলের ভেতর। বাড়ির বড়রা বলতো কথা না শুনলেই কিন্তু এক্ষুণি তারা চলে আসবে। চারিদিকে বেশ একটা সাড়া পড়ে যেতো সেসময়। আত্মীয়রা আসতো বাড়িতে। সার্কাস তো একাধিক দিন দেখতে যাওয়া হতোই। আর প্রায় সন্ধ্যেতেই বাড়ির বড়দের সাথে যাওয়া হতো সার্কাস ঘিরে যে মেলা বসে যেতো সেখানে। তো এই সার্কাসের হাতিদেরকে নিয়ে তাদের মাহুতরা দিনের বেলা বেরুতো খাওয়াতে। যেখানে যা পায়।হাতি চলতে চলতে…
Read More
যবনিকা

যবনিকা

যাবতীয় পাপ পুড়ে গেলে এইভাবে ভুলভাল লিখি তোমাকে অনুবাদ করব ভেবে একটা পাখি হাতে নিয়েছি তার ডানা  গজিয়েছে ইতিমধ্যেই আজকাল ছাদে বাসা বানানো শুরু করেছে নতুন...
Read More
অন্ধ ভালবাসা

অন্ধ ভালবাসা

কোঙ্কনগড়ের রাজা ভদ্রদেব ছিলেন সুপ্রশাসক। তার রাজ্যের প্রজারা খুব সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন। লোকজনের মুখে রাজার বহুবিধ গুণকীর্তন চর্চিত হত। যা তৎসময়ে দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক সময় অত্যাচারী রাজার হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে, সেই রাজার অনেক প্রজা একটু শান্তিতে বাঁচবার আশায় ভদ্রদেবের শরণাপন্ন হতেন। ভদ্রদেব কখনো কাউকে খালি হাতে রাজ-দরবার থেকে ফেরাতেন না। ভদ্রদেবের দু’ই রানী ছিল। হৈমবতী আর রূপবতী।  রূপে গুণে তারা ছিল নিরূপমা। তবে দু’ই রাণীর মধ্যে কোনো মিল ছিল না। দু’জনে, দু’জনকে সর্বদা হিংসে করতেন। হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া, অঢেল মণি-মানিক্য, প্রচুর ধন-সম্পদ, লোক-লস্কর, সিপাহী-সান্ত্রী, সুখী প্রজা, ভদ্রদেবের সবকিছুই ছিল। তবুও তার মনে কোনো সুখ ছিল…
Read More
সময়

সময়

গুলমা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দিনের শেষ ট্রেনটি এসে দাঁড়াতেই স্থিতপ্রজ্ঞ এক ধূসর শালিখ খুঁটে নিল একদানা বিবর্ণ সময়। ডুবঘাসে পড়ে ছিল খসে পড়া ঘড়ির কাঁটা, কবেকার সোনারঙ দিন। " হারায়নি কিছুই, জেনো, হারায় না সময়..." এইটুকু বলে- পাখিটা উড়াল দিল ফুল-উৎসবে দিগন্তে জারুলের বনে । অদূরে পাথুরে-চরা নদীটির বুকে ভেসে আসা পোড়াকাঠ ভর্ৎসনা ছোঁড়ে। রেলপুল দিয়ে ফিরে গেলে দিনান্তের গাড়ি ফিরে আসে পাখি । শোনায় সে অমৃতগান সারারাত ধরে ঐ পোড়াকাঠটিরে।
Read More
নুন ( শেষ পর্ব )

নুন ( শেষ পর্ব )

যে কমোডিটির এত বড় শক্তি সেই কমোডিটি যদি রান্নাঘরে এসে আমাদের খাবারের পাতে ঢুকে পড়ে তাহলে আমাদের শরীরে কি বিপ্লব হতে পারে ভেবে দেখেছেন? আমাদের শরীরে লবণ এক অত্যন্ত মূল্যবান ভারসাম্যে থাকে। বেশি হলে প্রাণ যাবে আর কম হলেও তাই।  দুটোতেই হার্ট বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ লবণের ওঠা নামায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে ব্রেনেরও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আমার সিনিয়র ছিল মহুয়াদি।  আমরা বলি মা-জননী। এত মায়ার মন তাঁর। গাইনি ডিপার্টমেন্টে কেউ মিষ্টি দিয়ে গেলে ভিসিটিং প্রফেসর থেকে শুরু করে বাচ্চা ডাক্তার সবাই পেতো সেই মিষ্টি। সবাই সমান, হয়তো চার ভাগের এক ভাগ, কিন্তু পেত।  মহুয়াদির কল্যাণে। প্রায় বছর কুড়ি আগে, …
Read More
রসাস্বাদন

রসাস্বাদন

“ ------- এই যে, প্রকাশ পাড়ুকোনের নাতি, অনেক খেলে ফেলেছো, এবার চাবিটা দিয়ে যাও, আমাদেরও তাড়া আছে।” নেটের ওপাশ থেকে উড়ে আসা শাটলককটা আকাশেই থেকে গেল। এমন কর্কশ গলার আওয়াজ শুনলে চোখ স্থির রাখা যায় নাকি? রাগে গা-টা রি রি করে উঠল। সবেমাত্র ১০-৯ এর লিড নিয়েছিলাম আমরা, আবার ওদের পয়েন্ট! যাইহোক, পকেট হাতড়ে চাবির গোছাটা বের করে একদৌড়ে রেলিঙের ধারে এসে দিলুদার হাতে দিতেই, সে কানের কাছে ফিসফিস করে বললো, “ তাড়াতাড়ি চলে আয়, আসর বসবে আজ।” তখন অবশ্য ম্যাচ জেতাটা অনেক বেশি জরুরি ছিল আমার কাছে, তাই আসর নামক শব্দটা কানে ঢুকলেও ঘিলু অবধি পৌঁছায় নি। এক দৌড়ে…
Read More
মৃত্যুর দিনে পরবাসে

মৃত্যুর দিনে পরবাসে

শরীর দ্বগ্ধ, পুরাণ জুড়ে, আদিমতার গান, ঈর্ষা কাতর, পরধর্মী, ললাটের অভিপ্রাণ । দূরারোগ্য প্রাচীর তোলে, হাওয়ায় ভাসে অলি, নতুন প্রাণের সহজ কথা, অবাধ হবে বলি স্নেহের পরশ তোমার ঠোঁটে, আসমানীর উড়োকথা যোগাযোগের আগুন নেভে হঠকারিতায় ব্যথা । নিষ্ক্রিয় দিন রঙিন কাগজ, অলিন্দের উপন্যাসে, জন্ম হবে তোমার কোলে, মৃত্যুর দিনে পরবাসে।
Read More
নুন

নুন

কিন্তু শক খেলাম ২০০২ সালে। দু মানুষ উঁচু আর তিন মানুষ চওড়া। কিলোমিটার হিসেবে লম্বায় প্রায় কলকাতা থেকে আগ্রা। পুরোটাই ঘন কাঁটাগাছের বেড়া। যে কাঁটাগাছের বেড়া তৈরি করতে ব্যয় হয়েছিল অনেক পরিশ্রম। ১৮৬৯ সালে শুধু দেড় হাজার টন কাঁটাগাছ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে গিয়ে এই বেড়া তৈরি করা হয়েছে । কয়েক হাজার সেপাই অতন্দ্র প্রহরায় রয়েছে যাতে এই কাঁটাগাছের বেড়া পেরিয়ে কেউ একশো গ্রাম লবণও এদিক থেকে ওদিকে না নিয়ে যেতে পারে। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে তো? দাঁড়ান, দাঁড়ান! ব্রিটিশ শোষণের গল্প কি শেষ হওয়ার? ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং কলোনিয়াল ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের  তৈরি এই গ্রেট হেজ অফ ইন্ডিয়া (great…
Read More
বিকর্ণ

বিকর্ণ

“ তোমার এতো বড় সাহস – আমার মেয়ের গায়ে হাত দাও? তোমাকে আমি জেলে ঢোকাব -এতো বড় আস্পর্ধা !!!!” “ বিশ্বাস করুন ,আপনার মেয়েকে আমি মারতে চাইনি – হঠাৎ করে রাগের মাথায় এক ঘা লাগিয়ে দিয়েছি।“ “জেলের ঘানি টানলে ঐ সব রাগ টাগ উধাও হয়ে যাবে – কত আশা করে আমার আদরের বড় মেয়ের সঙ্গে তোমার আমি বিয়ে দিয়েছিলাম….” “ বিশ্বাস করুন রাগ আমার এমনি আসেনি….. ঝগড়া হল আমার সঙ্গে, সেই রাগে মারতে লাগল আমার তিন বছরের বাচ্চা ছেলেটাকে- আপনার আদরের নাতিকে। মাথার ঠিক রাখা যায়?” “ বাচ্চার প্রতি দরদ শুধুই তোমার একার মনে হচ্ছে? ও কি বাচ্চার মা না?…
Read More