ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে বেইজিং। চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, বিতর্কিত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন তারা পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে সামরিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লি এই আশঙ্কাই প্রকাশ করে আসছিল, যা এখন চীনের এই সরাসরি স্বীকারোক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ ছিল মূলত তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৌশলগত সহায়তার অংশ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার স্বার্থে ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টিকে একটি বড় ধরনের প্রক্সি যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গভীর হুমকি হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন চীনা বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে পাকিস্তান ও চীনের সামরিক সম্পর্ক কেবল অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি ময়দানে কৌশল নির্ধারণ পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং জে-১৭ (JF-17) থান্ডার ফাইটার জেট পরিচালনার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের বিশেষজ্ঞরা নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং সীমান্ত উত্তেজনায় চীনের সরাসরি উস্কানি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বেইজিংয়ের এই অকপট স্বীকারোক্তি এমন এক সময়ে এল যখন হিমালয় সীমান্তেও ভারত-চীন সম্পর্ক অত্যন্ত নাজুক। এই নতুন তথ্য প্রকাশ হওয়ার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় ভারত তার প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
