ফুচকা দেখলেই জিভে জল আসে। টক-ঝাল জল, আলু-মশলার পুর আর মুচমুচে ফুচকা—এই জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে কমবেশি সকলেরই। তবে ফুচকার খোলস কোনটি স্বাস্থ্যকর- সুজির না কি আটার?
পুষ্টিবিদদের মতে, তুলনামূলকভাবে আটার ফুচকা কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। তবে কোনও ধরনের ফুচকাকেই সরাসরি ‘স্বাস্থ্যকর খাবার’ বলা যায় না। আটা, সুজি কিংবা ময়দা—যে উপকরণই ব্যবহার করা হোক, ফুচকা সাধারণত তেলে ভেজে তৈরি করা হয়। ফলে খাবারটির ক্যালোরি ও ফ্যাটের পরিমাণও বাড়তে পারে।
সম্পূর্ণ গমের আটা ব্যবহার করলে ফুচকার খোলসে তুলনামূলক বেশি ফাইবার পাওয়া যায়। ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে একই পরিমাণ ফুচকা খেলে আটার ফুচকা তুলনামূলক বেশি সময় পেট ভরা রাখার সম্ভাবনা থাকে।
অন্যদিকে, সুজি থেকেও বেশ কিছু পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে সম্পূর্ণ গমের আটায় শস্যের বাইরের অংশও থাকে। তাই ফাইবারের দিক থেকে তা সাধারণত সুজির তুলনায় সুবিধাজনক। পাশাপাশি গোটা শস্যে বিভিন্ন খনিজ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ উপাদানও পাওয়া যায়।
এ ছাড়া রাস্তার ফুচকার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহৃত জল, পুরের উপকরণ, হাত ও বাসনপত্রের পরিচ্ছন্নতা—সবকিছুর উপরই খাবারের নিরাপত্তা নির্ভর করে।
তাই সুজির ফুচকাকে একেবারে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে দাগিয়ে দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনই আটার ফুচকা খেলেই তা স্বাস্থ্যকর খাবারে পরিণত হবে—এমনটাও নয়। আটার ফুচকা তুলনামূলকভাবে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শেষপর্যন্ত কতটা খাওয়া হচ্ছে, কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং তার সঙ্গে কী উপকরণ থাকছে—এই বিষয়গুলির উপরই ফুচকার গুণগত মান নির্ভর করে।
