নবদ্বীপের পোড়ামাতলা এলাকার ঐতিহাসিক শ্যামসুন্দর মন্দিরে চুরি। মন্দিরে প্রবেশ করে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ থেকে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে চম্পট দিয়েছে এক দুষ্কৃতী। ঘটনার সময় মন্দিরে থাকা বৃদ্ধ বাসিন্দা ও পুরোহিতের পরিবার কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। মন্দিরের সেবাইত পরিবারের সদস্যা শুভশ্রী গোস্বামী জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে আটটা নাগাদ। সেই সময় তাঁর মা রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবা, যিনি কানে কিছুটা কম শোনেন, তিনি ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন। শুভশ্রীদেবী নিজে কিছু জরুরি দরকারী জিনিস কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন। ঠিক এই সুযোগেই মন্দিরের সদর দরজা খোলা (ভেজানো) থাকার কারণে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক ভেতরে প্রবেশ করে।
ঠাকুরঘর থেকে হঠাৎ খসখস আওয়াজ পেয়ে শুভশ্রী দেবীর মা কৌতূহলবশত এগিয়ে যান। তাঁর উপস্থিতি টের পেয়েই দুষ্কৃতীটি দ্রুত মন্দির চত্বর ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে ঠাকুরঘরে গিয়ে দেখা যায়, রাধারাণীর কানের বড় সোনার দুল এবং টিকলি গায়েব। শুধু তাই নয়, শ্যামসুন্দরের মাথার টিকলি এবং একটি কানের দুলও টেনে-হিঁচড়ে ছিঁড়ে নিয়ে গেছে ওই চোর। শুভশ্রী গোস্বামী জানান, “এর আগে বহু বছর আগে এখানে একটি সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছিল, তবে ঠাকুরের গয়না চুরি হওয়ার মতো এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। আমরা সবসময় এখানে নিরাপদ বোধ করতাম এবং ঠাকুরকে সবসময় গয়না পরানোই থাকত। কিন্তু আজকের এই ঘটনার পর আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। এখন থেকে আমাদের অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”
মন্দির প্রাঙ্গণে নিজস্ব কোনো সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা নেই বলে জানা গেছে। তবে আশেপাশে এবং রাস্তায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শুভশ্রী গোস্বামী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন। পোড়ামাতলার মতো একটি জনবহুল ও ধর্মীয় স্থানে এমন চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
