নবান্নে নজিরবিহীন নিরাপত্তা: হাই-অ্যালার্টে রাজ্য সচিবালয়, মোতায়েন অতিরিক্ত বাহিনী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন যত গড়াচ্ছে, ততই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সচিবালয় চত্বরকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে পুলিশ ও প্রশাসন।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়

গণনা চলাকালীন যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নবান্ন চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার প্রধান দিকগুলি হলো:

অতিরিক্ত বাহিনী: কলকাতা ও হাওড়া পুলিশের পদস্থ কর্তাদের নেতৃত্বে সচিবালয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে মোতায়েন করা হয়েছে শয়ে শয়ে পুলিশ কর্মী।

ব্যারিকেড ও ড্রোন নজরদারি: নবান্নে প্রবেশের প্রধান রাস্তাগুলিতে নতুন করে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এমনকি আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমেও পুরো এলাকার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

র‍্যাফ (RAF) মোতায়েন: যে কোনো ধরনের জমায়েত বা বিশৃঙ্খলা রুখতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর একাধিক টিমকে।

কেন এই কড়াকড়ি?

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা বাড়তে পারে। নবান্ন যেহেতু রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু, তাই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে যাতে সচিবালয় চত্বরে কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়, তার জন্যই আগাম এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

১৪৪ ধারা জারি

সচিবালয় সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিনা কারণে ভিড় করা বা জমায়েত হওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

বর্তমান পরিস্থিতি: এখনও পর্যন্ত নবান্ন চত্বরে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে গণনা কেন্দ্রের ট্রেন্ড বা রুঝান পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তার তৎপরতা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।