দেশরক্ষার পাশাপাশি মানবতার দৃষ্টান্ত: স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনা জওয়ান শক্তি পাল

পেশায় তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক। দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনই তাঁর জীবনের অঙ্গ। কিন্তু সেই পরিচয়ের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে অদম্য ইচ্ছা, সেটাই এবার নতুন করে তুলে ধরলেন শিলিগুড়ির শক্তি পাল। তাঁর এই মানবিক অভিযানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছিলেন স্ত্রী গীতিকা পাল। আসামের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের দুর্দশার কথা জানতে পেরেই তাঁরা ছুটে যান দুর্গত এলাকায়, হাতে তুলে দেন প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী এবং ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বেঁচে থাকার সাহস।

প্রথম পর্যায়ে দুর্গত পরিবারগুলির হাতে খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল, ওষুধ, পোশাক, বাসনপত্র-সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তাঁরা বুঝতে পারেন, খাবার থাকলেও রান্না করার মতো জ্বালানির তীব্র সংকট রয়েছে। সেই বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েই দ্বিতীয় দফায় আরও বড় উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই দম্পতি।

দ্বিতীয় পর্যায়ে শিবসাগর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের নিমাইজান, নাজিরা ও লিগরিপুকুরি এলাকার বন্যাদুর্গত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৯০টি গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাস বার্নার। পাশাপাশি নতুন জামাকাপড়, বাসনপত্র, হাওয়াই চটি এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রীও বিতরণ করা হয়। এমন সহায়তা পেয়ে বহু পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।

শক্তি পাল ও গীতিকা পালের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে, ইউনিক ফাউন্ডেশন। তবে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল না কোনও সংস্থাকে সামনে আনা। তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য—বন্যায় সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন মিটিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। সেই লক্ষ্য নিয়েই নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তাঁরা।

শিলিগুড়ির এই সেনা জওয়ান ও তাঁর স্ত্রীর মানবিক উদ্যোগে উত্তরবঙ্গের বহু মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ অর্থ দিয়েছেন, কেউ ত্রাণসামগ্রী। একের পর এক সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রমাণ হয়েছে, একজন সৈনিকের দায়িত্ব শুধু দেশের সুরক্ষায় নয়, প্রয়োজনে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেও সমানভাবে নিবেদিত থাকতে পারে।