টাটা সন্সের বোর্ডে ‘ডেডলক’ নয়, গঠনতন্ত্রই চূড়ান্ত

টাটা সন্সের সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের কোনও সিদ্ধান্তে শুধু পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটই যথেষ্ট নয়। সংস্থার প্রায় ৬৬ শতাংশ মালিকানা থাকা টাটা ট্রাস্টের মনোনীত দুই পরিচালকের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনও প্রয়োজন। ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ তাঁদের একজন এন. চন্দ্রশেখরনকে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়নি এবং প্রস্তাবটি বৈধভাবে পাশ হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সামগ্রিক বোর্ডে ভোট সমান হলে চেয়ারম্যানের নির্ণায়ক ভোট প্রযোজ্য হলেও টাটা ট্রাস্টের মনোনীত পরিচালকদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।

বক্তব্যে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি কোনও অচলাবস্থা নয়, বরং সংস্থার গঠনতন্ত্রে থাকা সুরক্ষামূলক অধিকার প্রয়োগ করা হয়েছে। তাই পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবটি শুরু থেকেই আইনত অবৈধ বলে দাবি করা হয়েছে।

সাইরাস মিস্ত্রিকে অপসারণের মামলায় টাটা ট্রাস্টের মনোনীত পরিচালকদের বিশেষ ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। টাটা সন্স সুপ্রিম কোর্টে এই অধিকারকে শেয়ারহোল্ডারদের বৈধ সুরক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই অধিকারকে অন্যায্য বলার সিদ্ধান্ত খারিজ করে। ফলে বর্তমানে সেই অধিকার অস্বীকার করা যায় না বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া, সংস্থার শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হলে কর্পোরেট পরিচালন ব্যবস্থা উন্নত হবে—এই যুক্তিরও বিরোধিতা করা হয়েছে। কারণ, তালিকাভুক্ত না হয়েও টাটা সন্স বহু বছর ধরে স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ, নিরীক্ষা কমিটি, মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন এবং অভ্যন্তরীণ লেনদেন প্রতিরোধের মতো বিভিন্ন সুশাসন ব্যবস্থা মেনে চলছে।

শেষে বলা হয়েছে, মূল প্রশ্ন টাটা সন্সকে কে পরিচালনা করবে তা নয়; বরং ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে টাটা ট্রাস্টের কাজের কেন্দ্রে থাকা কোটি কোটি সুবিধাবঞ্চিত ও পরিষেবার বাইরে থাকা ভারতীয়দের হয়ে কথা বলার জায়গাটি কে বজায় রাখবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।