এটিএম কার্ড আটকে রেখে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেওয়া এক চক্রান্তের জট ছাড়াল মাটিগাড়া থানার সাদা পোশাকের পুলিশ। উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিহারের নালন্দা থেকে যুক্ত থাকা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আসামের কামাখ্যা থেকে। ধৃতের নাম সুমিত কুমার বেলাউর গ্রাম, রাজগীর থানা, নালন্দা, বিহার বাসিন্দা । গত ২৩শে জুলাই আঠারোখাই অঞ্চলের বাসিন্দা দীপঙ্কর বর্মন শিবমন্দির এলাকার একটি এটিএমে টাকা তুলতে যান। ৫,০০০ টাকা তোলার পর তিনি লক্ষ্য করেন যে তাঁর কার্ডটি এটিএম কাউন্টারের ভেতরে আটকে গেছে। এটিএমের দেওয়ালে সাঁটানো একটি তথাকথিত হেল্পলাইন নম্বরে তিনি যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, সমস্যা সমাধানের জন্য বাগডোগরায় যেতে হবে।
সন্দেহ হওয়ায় দীপঙ্করবাবু পুনরায় এটিএমে ফিরে এসে দেখেন তাঁর কার্ডটি গায়েব এবং অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত ৮,০০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ২৪শে জুলাই মাটিগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভিযোগকারী। অভিযোগের ভিত্তিতে মাটিগাড়া থানার সাদা পোশাকের পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্তের লোকেশন ট্রেস করা হয়। এরপর মাটিগাড়া থানার একটি বিশেষ দল আসামের কামাখ্যায় অভিযান চালিয়ে সুমিত কুমারকে আটক করে এবং ট্রানজিট রিমান্ডে শিলিগুড়ি নিয়ে আসে।
পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনার পেছনে একটি সুসংগঠিত ও অভিজ্ঞ চক্র কাজ করছে। কেবল শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গ নয়, ওড়িশা, আসানসোল, বর্ধমান এমনকি আসামের বিভিন্ন এলাকায় এরা একই কায়দায় বহু মানুষকে প্রতারিত করেছে। এটিএমে স্কিমার কিংবা জ্যামার লাগিয়ে কার্ড আটকে রাখা এবং ভুয়ো হেল্পলাইন নম্বর সাঁটিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করাই ছিল এদের মূল কৌশল। আজ শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাটিগাড়া থানার পুলিশ এই চক্রের বাকি সদস্যদের এবং মূল পান্ডাকে ধরার জন্য তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে।
