ডায়েটে চিয়াবিড ও তিসি যোগ করার আগে জানুন, কোন রোগীদের জন্য এটি মোটেও নিরাপদ নয়

ব্যস্ত জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অনেকেই এখন শরীর ভালো রাখতে নেটমাধ্যম দেখে চিয়া, তুলসী, তিসি কিংবা কুমড়োর বীজের মতো তথাকথিত ‘সুপারফুড’ রোজের ডায়েটে রাখছেন। ওট্‌সের সাথে, জিমে যাওয়ার আগে স্মুদির সঙ্গে কিংবা বিকালের হালকা খিদে মেটাতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই একমুঠো রকমারি বীজ খেয়ে নিচ্ছেন। সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য এই বীজগুলো অত্যন্ত উপকারী হলেও, সবার শরীরের জন্য কিন্তু এগুলো মোটেও ভালো নয়। বিশেষ করে যাঁরা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই অভ্যাস উল্টে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

পুষ্টিবিদ শ্বেতা চক্রবর্তীর মতে, পরিমিত মাত্রায় বীজ খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো হলেও কিডনির অসুখ থাকলে তা খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। কারণ বিভিন্ন প্রকার বীজে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ফসফরাস আর প্রোটিন থাকে। সুস্থ কিডনি রক্তে এই উপাদানগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে বা অসুখ হলে শরীর থেকে এই অতিরিক্ত খনিজগুলো ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের হতে পারে না। ফলে রক্তে এগুলোর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, যা শরীরের জন্য বড় বিপদ তৈরি করে।

বিশেষ করে কিডনি বিকল হওয়ার কারণে যাঁদের নিয়মিত ডায়ালিসিস করাতে হয়, তাঁদের খাওয়াদাওয়ায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও, কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এগুলো যথেচ্ছ খাওয়া একেবারেই নিষেধ। যেহেতু অসুস্থ কিডনি রক্ত পরিশোধন করতে পারে না, তাই বীজ খাওয়ার ফলে সোডিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়াম শরীরে জমে গিয়ে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ফলস্বরূপ, সুস্থ হতে গিয়ে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের বীজ খাওয়া শরীরের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।