সাহিত্য

শেষ দেখা

শেষ দেখা

আমার বিদেহী আত্মায় শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তুমি হাতে রজনীগন্ধার স্টিক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো আমার মৃতদেহের পাশে।তোমার চোখের কোণে চিক চিক করে উঠছে জল,ঠোঁট কেঁপে উঠছে ঘন ঘন।কিছু কি বাকি থেকে গেছে এখনো? আমিতো গোটা বিশ্ব চাইনি তোমার কাছে,শুধু তোমার অন্ধকারটুকু…তুমি তবু ফিরিয়েই দিলে। দেখো আজ কেমন আলো মেখে শুয়ে আছি,কাছে এসো,নিংড়ে নাওএযাবৎ যত আলো জমা করেছি,শেষদেখা হলে সবই তোমায় দিয়ে যাবো বলে। ....................পারমিতা দে(দাস)
Read More
হানিফ মাঝি ও বর্ষা

হানিফ মাঝি ও বর্ষা

প্রহর প্রহর ঝমর ঝমাৎঈশান কালো মেঘ।এমন সময় কলম ধরেইকবির আসে বেগ।আকাশ পানে হানিফ চাচাকরুণ চোখে চায়।মুষল ধারায় কেমন করেনৌকোখানা বায়!?কপাল জুড়ে ভাঁজের রেখাবিন্দু বিন্দু ঘাম -----বানের জলে ভেসেই চলেগাঁয়ের পরে গ্রাম।বুকের শিরা ফুলিয়ে হানিফহ্যাঁচকা মারে টান -----একটা শুধু টিনের চালাতাও বুঝি নেয় বান!!কবির কলম লিখেই চলেইলিশ মাছের ঘ্রাণ।ভাতের সুবাস পায় না হানিফক্যামনে বাঁচে প্রাণ!?
Read More
বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ

বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ

ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে ভারতীয় অন্যান্য ভাষার সাহিত্যে যে নতুন ঘরানার সাহিত্য মূলত বিকাশ লাভ করেছিল তার মধ্যে উপন্যাসে ছিল প্রধানতম।বাংলা সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের(১৮৩৮-৯৪) পর সম্পূর্ণ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।ঐতিহাসিক উপন্যাসের আঙ্গিক থেকে বেরিয়ে বাংলা উপন্যাসের নতুন কায়াকে যিনি গঠন করেছিলেন তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(১৮৬১-১৯৪১)। সামাজিক উপন্যাসের সূক্ষ্মতর ও ব্যাপকতর ব্যবস্থার প্রবর্তন করে রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্য ও সমাজকে বা উপন্যাসের ইতিহাসকে পুনর্নির্মাণ করেছিলেন।বাংলা উপন্যাসের বাস্তবতার যে গভীরতর পরিণতি দেখা গিয়েছিল তার প্রথম সূচক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ।"রোমান্স ও ইতিহাস" এই দুটি বিষয়কে দূরে সরিয়ে বাস্তব জীবনের শক্ত জমির উপরে রবীন্দ্রনাথ নিজ স্বাতন্ত্র্যকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।উল্লেখ্য যে রবীন্দ্রনাথের পূর্বসূরী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য জীবনের শেষদিকে মানবচরিত্রের…
Read More
সেই সাধের ছাদটা

সেই সাধের ছাদটা

তুহিনের সাথে আমার যখন বিয়ে ঠিক করেন আমার বাবা, তখনই আমার এ বিয়েতে আপত্তি ছিল | কারণ, তুহিন আর আমি স্বভাবে, চরিত্রে, মানসিকতায় সম্পূর্ণ বিপরীত | তুহিনের বেশ বড়ো প্রমোটিংয়ের ব্যবসা, এলাকায় যথেষ্ট প্রতিপত্তি, সাথে অনেক অর্থ | আমার বাবার একসময়ের বন্ধু ছিলেন তুহিনের বাবা | কিন্তু বেশ অনেকদিন হয়েছে তিনি গত হয়েছেন | কিন্তু তুহিনের পরিবারের সাথে আমার বাবার বেশ সুসম্পর্ক ছিল | সেই সুসম্পর্কের সূত্র ধরেই আমার বাবা তুহিনের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেন | আমি তখন সদ্য স্কুলে চাকরি পেয়েছি | চাকরির সাথে বিভিন্ন নৃত্যনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি | আমার জীবনের একটা বড়ো অংশ ছিল নাচ | আমার…
Read More
মূক

মূক

শত তল্লাশ শেষে নিজেকে আবিষ্কার করেছিএক অন্ধকার ঘেরা চাপা গলিতেবারবার পা টেনে রয়েছে বিষাক্ত কর্দমাক্ত পথ। দুচোখের পাতায় অনায়াসে ঝড়ে পড়াস্রোত যেন, কিছু বলতে চেয়েছিলঅথচ, আজও স্তব্ধ। কেবল ভেসে আসে দহন আর্তনাদযার কালো ধোঁয়ায় ঝাপসা চারিদিক ,বোধহয় বুকের ভেতর থেকেজ্বলে উঠছে সেই অবদমিত চিৎকারজটিল সম্পর্ক ঘেরা বেড়াজালেধর্ষিত মনটার।
Read More
নীরব অনুভূতি

নীরব অনুভূতি

খাবার টেবিলে বসে বিজন স্ত্রী দীপালির উদ্দেশ্যে বলল_ আজ আশ্বিন মাসের ক'তারিখ? কেন বাংলা তারিখের হিসাব করছ কেন? ষোলো। বলল দীপালি। না এমনিই।ছেলের কথা মনে পড়েছে বুঝি? আরও আট দিন আছে, ন'দিনের মাথায় ছেলে আসবে। ছাব্বিশ তারিখে মহালয়া মহালয়ার দিন থেকে রূপমের কলেজ ছুটি। বিজন বাবুর একমাত্র ছেলে রূপম। বিহারের এক কলেজে অধ্যাপনা করে। ভ্যাকেশন না হ'লে সচারচর বাড়ি আসতে পারে না। এদিকে রোজ খাবার সময় বাপ-মার ছেলের কথা মনে পড়ে। মা কষ্ট পাবেন ভেবে বিজনবাবু মুখ ফুঁটে কিছু বলেন না। দীপালি প্রায় দিনই খেতে বসে বলে, ছেলেটা যে আজ কি দিয়ে খেলো! হোটেলের রান্না , এক দিনও বোধহয় বাছা…
Read More
বন্দীত্বের ঘরে অসুখ

বন্দীত্বের ঘরে অসুখ

জ্বলছে দুচোখ আলোআঁধারিতে অসুখে পুড়ছে মাটিসূর্যডুবির সমাপ্তি রেখায় একাকী আমরা হাঁটিবন্দীত্বের চোরাকুঠুরিতে মানুষ জমানো আছেবেঁচে আছে কী পথিকের দল চেনা পৃথিবীর কাছে ……… বহুদিন দরজার সামনে কোনো চেনা মুখ দেখিনি| হাত ধরাধরি করে নীলেসাদায় পোশাক পরে কচিকাচালিদের রাস্তা পার হতে দেখিনি বহুমাস| আমার মন খারাপের মেঘ বড় অভিমানী| গুমরে মরলেও বৃষ্টি হতে চাই না| বন্দীত্বের ঘরে অসুখ সাজিয়ে রান্নাবাটি খেলার স্মৃতি রোমন্থন করে পাহাড়ের বুকে জমিয়ে রাখে বিষন্নতার অসহ্য যন্ত্রণা | দেখতে দেখতে বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় ,শ্রাবন পার হয়ে যায়| শেষ হয়ে যায় একটি বছর | কত ঘেঁটু ফুল অকালেই ঝরে যায়| আগুন রঙের পলাশের বুকে প্রখর রোদ নেমে আসে…
Read More
কৈলাসে ফেরা

কৈলাসে ফেরা

মা দুর্গা প্রায় ঘন্টা খানেক আগেই পৌছে গেছেন তাঁর স্বামীর বাড়ি, কৈলাসে।আজ মায়ের আরেক রুপ। তাঁর ছেলে মেয়েরা মায়ের সাথে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। কারণ ভীষণ মন খারাপ মায়ের। বাবাবাড়ী থেকে ফিরে প্রতিবারই মন খারাপ থাকে কিছুসময় তাঁর, কিন্তু আজকের পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে। কাপড়চোপড়ও বদল করেননি। সেই যে বসে আছেন, আছেনই। কথাবার্তা বন্ধ। চোখের তারায় কষ্টের রেখা আর ক্ষোভের আগুন দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। এ কদিনের অগোছালো সংসার পরিপাটি করারও কোন তাড়া নেই। কি এক বিমর্ষতা আর অস্ফুট দুঃখের জ্বালায় মুখখানা তপ্ত শিখার মতো জ্বলেই যাচ্ছে। প্রিয় পুত্র গনেশের ক্ষুধার বিষয়েও আজ মা নির্লিপ্ত। দিদিরা যা পারছেন করছেন কোনমতে। সকলেই…
Read More
অব্যক্ত

অব্যক্ত

__"শোনো বড় বৌমা তুমি মাছের কালিয়াটা তুলে রাখ। এমনিতে অনেক বয়স হয়েছে আমার। খাওয়া দাওয়ায় একটু সংযম দরকার। কাল তো সকাল সকাল সব লোকজন এসে পড়বে। তুমি দেখ কোন আয়োজনে যেন ত্রুটি না থাকে। এবার আমি যাই তোমার শ্বশুরমশাইকে পান দিয়ে আসি";এই বলে দুধ দিয়ে অল্প ভাত খেয়ে উঠে যান প্রবীণা গিরিজাদেবী। মাথা নেড়ে শাশুড়ি মার কথায় সম্মতি দেয় চৌধুরী বাড়ির বড় বউ রুমকি। বাড়ির সকলের খাওয়া হয়ে গেছে,শুধু ওর নিজের খাওয়াটাই বাকি। অবশ্য সায় দেওয়া ছাড়া বিশেষ কিছু করারও নেই রুমকির। মরমে আর অনুশোচনার চোরাবালিতে সবসময় ডুবে থাকে ও। অবশ্য তার একটা গভীর কারণ নিশ্চয়ই আছে সেটা হল ওর…
Read More
অন্তত নিজের কাছে

অন্তত নিজের কাছে

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিআসলে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা করছি,অথচ আমার এখন স্বেচ্ছা নির্বাসনে যাবার কথা।এ সময় অন্তত নিজের কাছে কিছু সত্য বলা প্রয়োজন -ভালবাসা আজকাল ধারণায় বাঁচেযেহেতু আমরা পরস্পরের থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাই।এই জন্ম, এই অতীতচারিতা - হয়তো বিস্মৃতি চেয়েছিলাম,আয়নার সামনে স্থির হয়ে দাঁড়ালে স্পষ্ট দেখতে পাইবুকের মধ্যে বইছে একটা নদীতীব্র জলস্রোতে ভেসে যাচ্ছে যাপিত জীবন। ………রঞ্জন চক্রবর্ত্তী
Read More
ব্যথা

ব্যথা

আচার খাবি?মন্দ হয় না, আছে ?হ্যাঁ হ্যাঁতোর পিসে খুব পছন্দ করে বলে বানানোই থাকেছুট্টে গিয়ে রান্না ঘরের সেল্ফ থেকে আচার নামাতেইআর্তনাদ শুনলামকোমরে হাত দিয়ে পিসিমা তখন বেঁকে দাঁড়িয়ে পড়েছেকোনোভাবে এসে বিছানায়রইলো পরে আমের আচাররইলো পরে পিসির বাড়ির চিকেন ঝোল আর বাসমতিএকটু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলাম মাসল স্প্যাসম বলেই মনে হলো।বেডরুম থেকে বেরিয়ে আসতেই শুনলামতুই খেয়ে যাস কিন্তু, আমি কদিনেই ঠিক হয়ে যাবো কোমরে ব্যথা কার না নেই ? তবে কুড়ি বছর বয়সে যে কোমরের ব্যথা কে আমরা হারিয়ে দিতে পারি রাতে ঘুমোলেই, সেখানে ৫০ পেরোলেই কোমরের ব্যথা চিরসাথী হয় অনেকেরই। ২০১০ সালের এক গবেষণায় জানা গেছে মানুষের প্রায় ৩০০ টি…
Read More
স্বার্থপর

স্বার্থপর

পাহাড়ের বুক চিরে বেশ জোড়েই চলছে গাড়িটা - সন্ধ্যে নামার আগেই কার্শিয়াং ফিরতে হবে - শৈবালের পাশে বসা অনুর মনে হয় শীত শীত আমেজ ' আউটিংয়ের ' মজাটাকে বাড়িয়ে তুলছে অনেকখানি - ' ড্রাইভিং সিটে ' শৈবালকে বরাবরই চোখ বুঁজে ভরসা করে এসেছে অনু - যদিও এটা শুধু পাহাড়ের চড়াই উতরাইয়ের ক্ষেত্রেই নয় - জীবনের প্রতিটি ওঠা পড়ায় শৈবালের সাহচর্য যে অনুকে কতটা আশ্বস্ত করেছে ও স্বস্তি দিয়েছে তা শুধুমাত্র অনুই জানে। সোনালী এই বিকেলে তাল কাটে একটি টায়ারের বিদ্রোহ ঘোষণার মধ্য দিয়ে - দোকানপাট শূণ্য নির্জন একটা অঞ্চলে গাড়িটা স্থবির হয়ে যাওয়ায় টায়ার পাল্টানোর কাজে অন্য কারো সাহায্য যে…
Read More
ধূসর বন্দী

ধূসর বন্দী

আমি কিন্তু ঠিক, মুক্ত হতে চা‌ইনি!শেকলে বদ্ধ হতেও, আমি যে পারিনি;আমি শুধু পাহাড়কে, বড্ড ভালোবাসি!ধূসর পাহাড়ে বন্দী ভীষণ,ওই স্নিগ্ধতার রাশি।কিন্তু সে স্নিগ্ধতা,আমায় করছে যে বড্ড বঞ্চিত!পাহাড়ি ধূসরতা আমাতেই,বেশ আছে সঞ্চিত।ধূসর শেকলের ধাঁধায়,নিজেই তো বন্দী আমি !ধূসর ধাঁধায়-ধূসর শেকলের,সে কি ভীষণরকম হামি!এমন বাঁধন,চাইনি যে আমি এই ধূসরতার মোড়কেহাঁটতে চেয়েছি একটু শুধু,সেই স্নিগ্ধ পাহাড়ি সড়কে।তবে স্নিগ্ধতা ব্যস্ত ভীষণ,আমায় মুক্তি দিতে…আমি যে ইতি,ওর সূচীপত্রের ঠিক প্রথম পাতাতে।আমার সূচনাতেই,সমাপ্ত সেই স্নিগ্ধ পাহাড়ি রেখা!আমার সূচীপত্রের প্রতিটি অধ্যায়,শুধু যে ধূসর কলমে লেখা।। ........... দেবাঙ্গনা ঘোষ
Read More
কোচবিহার জেলায় ভেষজ চাষ ও সম্ভাবনা

কোচবিহার জেলায় ভেষজ চাষ ও সম্ভাবনা

ভেষজ উদ্ভিদ হিমালয় পর্বত শ্রেণি এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে স্বাভাবিক উদ্ভিদ হিসেবে জন্মায়। এ অঞ্চলে অনেক প্রজাতির ভেষজ জন্মায়। ভেষজ সম্বন্ধে একটি কথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে— চিনলে জড়ি, না চিনলে খড়ি। অর্থাৎ চিনলে ভেষজ হিসেবে সব উদ্ভিদই জড়ির মত মূল্যবান। কিন্তু না চিনলে তা নিছক খড়ি বা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোচবিহারের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। কোচবিহার জেলায় ভেষজ উদ্ভিদ বাড়ির আশপাশে,জঙ্গলে এমনিতেই পাওয়া যায়। ঐগুলির বাণিজ্যিক চাষ কোনও কালেই হয় নি। রাজ আমলে কোচবিহার শহরে কবিরাজী বাগান গড়ে তোলা হয়েছিল। দুঃখের বিষয় মূল্যবান ভেষজ সমৃদ্ধ বাগানটি এখন বাদুড় বাগান নামে পরিচিত। আশেপাশের মানুষরা এখানে বর্জ্য ফেলে। বাগানটির অনেক অংশ জবরদখল…
Read More