ভারতে চকোলেটের বাজারে এখন প্রিমিয়াম ও স্বাস্থ্যকর বিকল্পের চাহিদা

৭ জুলাই, বিশ্ব চকোলেট দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ইনস্টামার্টের সাম্প্রতিক অর্ডার বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের চকোলেট খাওয়ার অভ্যাস দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রচলিত পছন্দের পাশাপাশি এখন ক্রেতারা ক্রমশ প্রিমিয়াম, স্বাস্থ্যকর এবং ইন্টারনেট দ্বারা প্রভাবিত নতুন ধরনের চকোলেটের দিকে ঝুঁকছেন। জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি শহরের অর্ডারের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাল দুবাই পিস্তাচিও-ফিলড চকোলেটের অর্ডার এক বছরে ১১,৭৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সবচেয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া চকোলেটের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। তবে এখনও ক্লাসিক মিল্ক চকোলেট সবচেয়ে জনপ্রিয়। মোট চকোলেট অর্ডারের প্রতি ১০টির মধ্যে ৪টিই মিল্ক চকোলেট। এছাড়া চকোলেট-কোটেড ওয়েফার বার, ফ্রুট অ্যান্ড নাট, ক্যারামেল এবং হ্যাজেলনাট ফ্লেভারের চকোলেটও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে সুগার-ফ্রি চকোলেটের অর্ডার বছরে ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডার্ক চকোলেটের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রোটিন চকোলেটও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা স্বাস্থ্যকর বিকল্পের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চকোলেট বিক্রিতে বেঙ্গালুরু শীর্ষে রয়েছে। শহরটি দেশের মোট সুগার-ফ্রি ও প্রোটিন চকোলেট অর্ডারের প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম চকোলেট কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গিয়েছে মুম্বইয়ের ক্রেতাদের মধ্যে। কলকাতাও ধীরে ধীরে প্রিমিয়াম চকোলেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উঠে আসছে। শহরটিতে হ্যাজেলনাট ও হোয়াইট চকোলেটের চাহিদা বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত, কলকাতার ক্রেতারা একদিকে নতুন ও প্রিমিয়াম চকোলেটের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রচলিত জনপ্রিয় চকোলেটের প্রতিও তাদের পছন্দ অটুট রয়েছে। ফলে পূর্ব ভারতে প্রিমিয়াম কনফেকশনারি ব্র্যান্ডগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চকোলেট এখন আর শুধু বিশেষ উপলক্ষের খাবার নয়; এটি দৈনন্দিন কেনাকাটারও অংশ হয়ে উঠেছে। ভালোবাসা দিবসে চকোলেটের অর্ডার ৭৪ শতাংশ বেড়ে যায় এবং সেই দিনে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ৭৪৫টি চকোলেট অর্ডার করা হয় বলেও জানা গিয়েছে। এছাড়া ক্রেতারা এখন গ্রোসারির সঙ্গে চকোলেটও নিয়মিত অর্ডার করছেন। পপকর্ন, আইসক্রিম, কলা, প্রোটিন শেক এমনকি ইনস্ট্যান্ট নুডলসের সঙ্গেও চকোলেট কেনার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আহমেদাবাদের এক গ্রাহক এক বছরে চকোলেট কিনতেই ১ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা খরচ করেছেন।