জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লাইফ-সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সিকিমে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ জোরদার করেছে

একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানি এবং সিকিমের প্রধান বীমাকারী  প্রতিষ্ঠান জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, দুটি সম্পূর্ণ সজ্জিত লাইফ-সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে স্যার থুটোব নামগিয়াল মেমোরিয়াল (এসটিএনএম) হাসপাতালকে সহায়তা করার কথা ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগটি ওই অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে এবং জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রতিশ্রুতিকে সুদৃঢ় করে।

2022 সাল থেকে, জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স সিকিমের প্রধান বীমাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজ্য জুড়ে আর্থিক সাক্ষরতা এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। একজন আজীবন সঙ্গী হওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং সিকিমের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র সুরক্ষা ও বীমার গণ্ডি ছাড়িয়ে এগিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে যে মানুষের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই প্রকৃত অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠে।

সিকিমের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গ্যাংটকের স্যার থুটোব নামগিয়াল মেমোরিয়াল হাসপাতালে উন্নত লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হওয়ার ফলে তাদের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটবে, যা গ্যাংটক এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে পরিষেবা প্রদান করবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকা যেখানে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেইসব স্থান থেকে রোগীদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে আনা এই অ্যাম্বুলেন্সগুলি স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণে সাহায্য করবে। সিকিমের মানুষের সবচেয়ে জরুরি মুহূর্তে সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, এগুলি স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপ কমাতে এবং সামগ্রিকভাবে জরুরি পরিষেবার দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।

এই উদ্যোগের বিষয়ে বলতে গিয়ে জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এমডি ও সিইও শ্রী অলোক রুংটা বলেন, “জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সে আমরা আমাদের ভূমিকাকে কেবল সুরক্ষা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, একটি বিশ্বস্ত আজীবন সঙ্গী হয়ে ওঠার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি। মূলত, জীবন বীমা হলো মানুষের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে সংকটজনক পরিস্থিতিতে, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখন মানুষের কাছে সময়মতো চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে এটি স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি পরিষেবার সুযোগ উন্নত করার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিকেও জোরদার করে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি পরিকাঠামো গড়ে তোলা, আর্থিক সাক্ষরতার প্রসার ঘটানো, সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়গুলির কাছে বীমা পরিষেবাকে সহজলভ্য করে তোলা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব তৈরি করতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা। জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং মূল স্তরে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে, আমরা সিকিমের প্রতিটি পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সার্বিক কল্যাণকে সুদৃঢ় করতে একটি অর্থবহ ভূমিকা পালন করার লক্ষ্য রাখি।”

এই উদ্যোগটি সম্পর্কে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে সিকিম সরকারের অর্থ পরিচালক ও নোডাল অফিসার, শ্রী মহেন্দ্র প্রধান বলেন, “আমরা এই অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সগুলির সংযোজনকে স্বাগত জানাই, যা রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ উন্নত করার ক্ষেত্রে জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে। এই অনুদানটি ছাড়াও, কোম্পানিটি সমগ্র সিকিম জুড়ে বীমা সচেতনতার বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা আমাদের জনগণের সার্বিক কল্যাণ ও আর্থিক সুরক্ষার প্রতি তাদের গভীর দায়বদ্ধতাকে প্রতিফলিত করে। 2027 সালের মধ্যে সিকিমে ‘সকলের জন্য বীমা’ নিশ্চিত করার যে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি—যা ভারতের জাতীয় লক্ষ্য 2047 সালের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে—তা পূরণে সকল স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা একান্ত অপরিহার্য। প্রতিটি নাগরিকের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সুরক্ষা এবং পরিচর্যার এই যৌথ স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ ধরনের অংশীদারিত্বগুলি অত্যন্ত সহায়ক।”

এই পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে সিকিম সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রী জি. টি. ধুঙ্গেল বলেন, “অংশীদারিত্ব কীভাবে জনস্বাস্থ্যসেবা প্রদান ব্যবস্থাকে উন্নত করতে পারে, এই উদ্যোগটি তার একটি মজবুত উদাহরণ। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলির সংযোজন জরুরি পরিষেবাকে উন্নত করবে এবং সমগ্র সিকিম জুড়ে সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এই তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্য আমরা জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে সাধুবাদ জানাই।”

সময়মতো পরিষেবা পাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চিফ থার্ড পার্টি ডিস্ট্রিবিউশন অফিসার শ্রী সর্বেশ কুমার মিশ্র বলেন, “সিকিমের মতো একটি রাজ্যে একেবারে প্রান্তিক স্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করা শুধু আর্থিক সুরক্ষার জন্যই নয়, বরং সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। উন্নত লাইফ-সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করার মতো পদক্ষেপগুলি দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য এই ঘাটতি মেটাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী, মূল স্তরের বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা মানুষের মধ্যে সচেতনতা, সহজলভ্যতা এবং বিশ্বাস বৃদ্ধি করবে। রাজ্যের প্রধান বীমাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বীমা পরিষেবার প্রসার ঘটাতে এবং সুরক্ষা যেন দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে, আমরা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

বীমাকারী প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতালে একটি রক্তদান শিবিরেরও আয়োজন করেছিল, যা জনস্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার সুযোগের সাথে আর্থিক সুরক্ষাকে নির্বিঘ্নে যুক্ত করা।

সমাজ-কেন্দ্রিক এই উদ্যোগের বৃহত্তর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে, জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা এবং সিকিমের ইন্ডিয়া প্রজেক্ট হেড, শ্রীমতি গীতাঞ্জলি চুগ কোঠারি বলেন, “2022 সাল থেকে, আমরা আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট প্রচার অভিযান, বাস্তব ওয়ার্কশপ এবং জনসংযোগমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমগ্র সিকিম জুড়ে বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জীবন বীমার প্রসার ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে আসছি। এই অ্যাম্বুলেন্স প্রদান সমাজের সার্বিক কল্যাণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার একটি বলিষ্ঠ প্রমাণ, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সময়মতো পাওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল স্তরে একটি অর্থবহ প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্যকে আরও সুদৃঢ় করে।”

এই উদ্যোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে, স্যার থুটোব নামগিয়াল মেমোরিয়াল হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ রুথ ইয়োনজান বলেন, “এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জন্য আমরা জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। সিকিমের মতো একটি রাজ্যে, যেখানে দুর্গম ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে পরিষেবা পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে, সেখানে এই লাইফ-সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সগুলি জরুরি চিকিৎসাসেবাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। এই অংশীদারিত্ব প্রতিটি বাসিন্দার জন্য সময়মতো এবং মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।”

সিকিমের প্রধান বীমাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেনারালি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স শহর ও গ্রামীণ বাজারগুলি জুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিষেবা সহজলভ্য করার মাধ্যমে বীমার প্রসার ঘটাতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার গ্রামীণ ও সামাজিক খাতের বাধ্যবাধকতার অধীনে, জেনারেলি সেন্ট্রাল লাইফ 31 মে, 2026 পর্যন্ত সিকিমে 6,500 জনেরও বেশি মানুষকে বীমা কভারেজ প্রদান করেছে। আইআরডিএআই-এর ‘2047 সালের মধ্যে সবার জন্য বীমা’ দর্শনকে সমর্থন করে সিকিম সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (ন্যাবার্ড), রাজ্য পুলিশ ও গ্রাম পঞ্চায়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার-প্রবর্তিত বিমা প্রকল্পগুলোকে মানুষের কাছে সহজবোধ্য করতে এবং প্রান্তিক স্তর পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুস্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে বাস্তব পর্যায়ের একটি প্রোডাক্ট পুস্তিকা বিতরণের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে আরও বেগবান করা হয়েছে।

কোম্পানিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ইউনিটগুলির মাধ্যমে একটি সম্প্রসারণযোগ্য গ্রামীণ জনসংযোগ মডেল কার্যকর করেছে, যার ফলে জেলাগুলি জুড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে ধারাবাহিক ও বাস্তব পর্যায়ের নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে। একে আরও কার্যকর করে তুলতে পথনাটিকা, গ্রামীণ কর্মসূচি, আউটডোর ও প্রিন্ট প্রচার অভিযানের মতো স্থানীয় স্তরের কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমের একটি শক্তিশালী সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রী, যুবসমাজ, পুলিশ কর্মী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারী, পঞ্চায়েত নেতা, কৃষক, ট্যাক্সি চালক, এনজিও এবং মূল স্তরের গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও গোষ্ঠী-ভিত্তিক পদক্ষেপগুলি আর্থিক সাক্ষরতা ও সচেতনতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। সম্মিলিতভাবে, এই প্রচেষ্টাগুলি একটি বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জনসংযোগ মডেল তৈরি করেছে এবং রাজ্য জুড়ে স্থানীয় অংশীদারিত্ব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও একটি সুদৃঢ় বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছে।