পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর ৫ অগাস্ট জাতীয় রাজধানীতে আয়োজিত আফ্রিকা দিবস ২০২৬-এর উদযাপনে অংশ নেন। এই অনুষ্ঠান চলাকালীন, তিনি ভারতে নিযুক্ত আফ্রিকান মিশনপ্রধান এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-আফ্রিকা সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি রোডম্যাপ শেয়ার করেন। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল ভারত ও আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও গভীর করা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রক কর্তৃক জারি করা একটি বিবৃতি অনুসারে, উপস্থিত সুধীবৃন্দকে সম্বোধন করার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত-আফ্রিকা অংশীদারিত্বের শক্তিশালী মতাদর্শগত ও ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের জুড়ে থাকা ইতিহাস ঔপনিবেশিক যুগে একটি নতুন মাত্রার রূপ নেয়, যখন আমাদের জনগণ পরাধীনতার শৃঙ্খলে নিপীড়িত হয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। ভারত এবং আফ্রিকা তাদের স্বাধীনতা ও মানবমর্যাদার জন্য যৌথ সংগ্রামে একসূত্রে দাঁড়িয়েছিল – এবং সেই বন্ধন আজও অব্যাহত রয়েছে।”
ড. জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন যে, “ভারত আফ্রিকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার, যার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৯৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিনিয়োগ ৮০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আফ্রিকার তরুণ জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের উদ্ভাবন-চালিত প্রগতির পরিপূরক। ভারত স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪০টিরও বেশি আফ্রিকান দেশকে ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৯০টি লাইন অব ক্রেডিট (LOC) দিয়েছে, যার মধ্যে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ২২০টি প্রকল্প ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ৯টি আফ্রিকান দেশে খাদ্যশস্য পাঠানো হয়েছে এবং মিলেট চাষের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হচ্ছে। এছাড়া, গত ৫ বছরে সংহতির প্রতীক হিসেবে ২৫টিরও বেশি দেশে ওষুধ, ভ্যাকসিন ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে বুর্কিনা ফাসো, মোজাম্বিক, লেসোথো, নামিবিয়া, জাম্বিয়া, জিম্বাবোয়ে, নাইজেরিয়া, বতসোয়ানা এবং সিয়েরা লিওনে খাদ্যশস্য সরবরাহ। জোয়ার-বাজরা (মিলেট) উৎপাদনে আমাদের পুনরুজ্জীবনের অভিজ্ঞতা আফ্রিকান দেশগুলোর জন্যও অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, আমাদের সংহতির প্রতীক হিসেবে গত ৫ বছরে ২৫টিরও বেশি আফ্রিকান দেশে ওষুধ, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দুর্যোগ ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।”
