আরবিআই-এর সুদের হার বৃদ্ধি ইঙ্গিত, সামনে আসতে চলেছে আরও কড়া নির্দেশ: কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ

বুধবার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বা আরবিআই-এর মুদ্রা নীতি কমিটি (এমপিসি) নীতিগত রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে তাদের অবস্থান “নিরপেক্ষ” বা নিউট্রাল থেকে বদলে ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং বা কড়া ঋণের নীতি-তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, লাগাতার মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির কারণে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়তে পারে। সুদের হার বৃদ্ধি বাজারের প্রত্যাশা মতোই ছিল, তবে নীতির অবস্থানের এই পরিবর্তনটি পর্যালোচনার মূল চমক হিসেবে সামনে এসেছে।

রিজার্ভ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ উপাসনা ভরদ্বাজ বলেন, “বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ী এমপিসি সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে, তবে অবস্থান বদলে কড়া নীতির দিকে যাওয়াটাই ছিল মূল চমক।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁদের ব্যাংক এখনও আরও ২৫ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে; বিশ্ববাজারের ঝুঁকি বজায় থাকলে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হতে পারে।

রিজার্ভ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল যখন মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বেশ কঠোর। অগাস্ট মাসে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি বা কনজিউমার ইনফ্লেশন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৮২ শতাংশে, আর এপ্রিল-জুন কোয়ার্টারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮ শতাংশ।

কলকাতার বাজারকে রিজার্ভ ব্যাংকের এই কঠোর নীতি ঋণ নেওয়ার খরচ, বন্ডের লাভ, বাজারে নগদ অর্থের জোগান এবং কর্পোরেট ঋণের সম্ভাবনার ওপর বিশেষ নজর রাখতে বাধ্য করবে। আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা মুদ্রাস্ফীতি, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এবং রিজার্ভ ব্যাংকের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর কড়া নজর রাখবেন, কারণ এই বিষয়গুলো অর্থায়নের শর্তাবলী ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।